Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ক্ষমার বার্তার পর মামলা নিয়ে প্রশ্ন, মোদিকে কটাক্ষ অভিজিতের

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

ক্ষমার বার্তার পর মামলা নিয়ে প্রশ্ন, মোদিকে কটাক্ষ অভিজিতের

নরেন্দ্র মোদি ও অভিজিৎ দীপকে। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ক্ষমার বার্তা দেওয়ার পর এবার সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। 

তিনি জানতে চেয়েছেন, শুধু মুখে ক্ষমার কথা বললেই হবে, নাকি আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও প্রত্যাহার করা হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মোদি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। গত এক সপ্তাহে এটি তার ধারাবাহিক ভিডিও বার্তার পঞ্চম পর্ব। 

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় কিছু তরুণ তার বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে। এমনকি তার প্রয়াত মাকেও অপমান করা হয়েছে। তবু তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিতে চান। 

মোদি বলেন, গালিগালাজ বা অপমান দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। শাস্তি, মামলা বা হয়রানির পথেও পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। বরং বিভ্রান্ত তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা উচিত। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। 

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান অভিজিৎ দীপকে। তিনি লেখেন, শুধু ক্ষমার কথা বললেই হবে না, আন্দোলনের ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোও প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তার এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।প্রসঙ্গটি নতুন নয়। 

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন হয়। সেই আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নয়ডার এক কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে।

পরবর্তীতে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয় এবং দেশজুড়ে তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন মহল থেকেও বক্তব্য আসে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরও আন্দোলন ঘিরে হওয়া মামলাগুলো নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী এখন তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। সে কারণেই তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে তরুণদের কাছে নিজের বক্তব্য পৌঁছে দিতে এই মাধ্যমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

তবে বিরোধীদের দাবি, শুধু আবেগঘন বক্তব্য দিলেই পরিস্থিতির সমাধান হবে না। আন্দোলনের সময় যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষমা ও সহনশীলতার বার্তা থাকলেও বিরোধীদের একাংশ বলছে, বাস্তব পদক্ষেপই হবে সরকারের অবস্থানের প্রকৃত পরীক্ষা। তাদের মতে, যদি সত্যিই ক্ষমা করার মানসিকতা থাকে, তাহলে আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

এদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়ায় থাকা মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার বার্তা রাজনৈতিক উত্তাপ কমানোর পরিবর্তে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।


Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দিল্লিতে মোদি-দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠক, আলোচনা যা নিয়ে

দিল্লিতে মোদি-দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠক, আলোচনা যা নিয়ে

বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে  ৩ নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ৩ নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

উত্তেজনার মধ্যেই রাহুলের ‘সত্যাগ্রহ’ ওয়েবসাইট, কী মিলবে এতে

উত্তেজনার মধ্যেই রাহুলের ‘সত্যাগ্রহ’ ওয়েবসাইট, কী মিলবে এতে

ফের উত্তপ্ত দিল্লি, যন্তর মন্তরে পুলিশি হামলা

ফের উত্তপ্ত দিল্লি, যন্তর মন্তরে পুলিশি হামলা

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে

ককরোচদের বিক্ষোভে হৃদরোগে একজনের মৃত্যু

ককরোচদের বিক্ষোভে হৃদরোগে একজনের মৃত্যু

আরও পড়ুন

নওয়াজ-ইমরান খান: ছিলেন বন্ধু, আবারও কি মিত্র হতে পারেন

নওয়াজ-ইমরান খান: ছিলেন বন্ধু, আবারও কি মিত্র হতে পারেন

লং মার্চ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান শাহবাজ শরীফের

লং মার্চ বন্ধ করে সংলাপে বসার আহ্বান শাহবাজ শরীফের

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ফের আটক করল দিল্লি পুলিশ

রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ফের আটক করল দিল্লি পুলিশ

ফ্রান্সের রাজপথে কেন বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা?

ফ্রান্সের রাজপথে কেন বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম