Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:১১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করেছে।  সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক আটক। 

আইসিই প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করেছে সংস্থাটি। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেফতারের রেকর্ড ছিল জুনে, প্রায় ৪৩ হাজার। ফলে টানা দুই মাসে নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে তার প্রশাসন।

দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জর্জিয়ায় বিশেষ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে বিমানবন্দরগুলো থেকেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।


আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, গ্রেফতারের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। জুনে ডিএইচএস জানায়, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ডিএইচএস এই অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায় থেকে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের এই বাস্তবসম্মত উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। এসব অপরাধীকে সরিয়ে আমরা আবারও আমেরিকাকে নিরাপদ করছি।’


তবে সরকারের এই ব্যাপক অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক কিছু ব্যক্তির কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। এমনকি তাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এই অভিযান শুধু অপরাধীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে কি না।

এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু সমর্থকও মনে করছেন, অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল জানান, গ্রেফতারের সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনও কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগকে এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: দ্য ডন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম