Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

নতুন সমরাস্ত্র পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

নতুন সমরাস্ত্র পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র

রণক্ষেত্রে দ্রুত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও নতুন প্রযুক্তির সমরাস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক অস্ত্র তৈরি করা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাদের নিজস্ব সামরিক পরীক্ষার জায়গাগুলো (টেস্ট রেঞ্জ) উন্মুক্ত করে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের একটি সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল জানান, এই উদ্যোগের ফলে সামরিক ঠিকাদারদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক লালফিতার দৌরাত্ম্য ও জটিলতা কয়েক মাস থেকে এমনকি কয়েক বছর পর্যন্ত কমে আসবে। 

শুক্রবার চালু হওয়া একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করার ৩০ দিনের মধ্যেই দেশে বা বিদেশে মিত্র দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন টেস্টিং রেঞ্জগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 

ড্রিসকল বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর জীবনমান উন্নত করতে পারে, তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং নিরাপদ রাখতে পারে—এমন কোনো উদ্ভাবন পরীক্ষা করতেই আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লেগে যেত। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ 

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের রূপ দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাটি এলো। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের ড্রোন হামলা কিংবা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহার—সবই বর্তমান যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি, চলমান বিভিন্ন সংঘাতের কারণে পেন্টাগনকে প্রতিনিয়ত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে, যেখানে একেকটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর তৈরিতে লাখ লাখ ডলার ব্যয় হয় এবং এতে দেশটির উন্নত অস্ত্রের মজুতও কমে আসছে।

‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ (এপি)-কে ড্রিসকল জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের পর্যবেক্ষণ এবং দেশটির দ্রুত নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির সক্ষমতা দেখে মার্কিন নীতিতে এই পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার মধ্যস্থতা আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। 

পেন্টাগন কর্মকর্তারা বাজারের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম খরচে কার্যকর অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত করে উৎপাদনের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ড্রিসকল জানান, বিগত ২০ বা ৩০ বছরে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক সব বাধা সেনাবাহিনী ভেঙে ফেলতে চায়। 

তিনি বলেন, ‘আমরা শিল্প খাতকে আহ্বান জানাচ্ছি আমাদের সৈন্যদের সঙ্গে মাঠে নেমে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ করার জন্য। আর সেনাবাহিনী হিসেবে আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো, আমরা এমন সব জিনিস সংগ্রহ করব যা আমাদের সৈন্যদের আরও শক্তিশালী, নিরাপদ এবং দেশকে সুরক্ষিত রাখবে।’ 

এই নতুন সুবিধার আওতায় ‘কভেন্যান্ট ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান মরক্কোতে অবস্থিত মার্কিন সেনাবাহিনীর মিসাইল টেস্ট রেঞ্জে তাদের নতুন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী অ্যাবি ডেনবার্গ জানান, তারা শুধু ‘অ্যানথেম’ ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতাই প্রদর্শন করেননি, বরং অন্য সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সহজ পথ তৈরি করে দিয়েছেন।

নতুন এই কর্মসূচির অধীনে কোনো সামরিক চুক্তি না থাকলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো রকেট, ড্রোন এবং ড্রোন-বিধ্বংসী অস্ত্র পরীক্ষার জন্য সেনাবাহিনীর পাঁচটি টেস্ট রেঞ্জ ব্যবহার করতে পারবে। 

সম্প্রতি ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ নামক গবেষণা সংস্থার একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘাতের কারণে প্যাট্রিয়ট এবং থাড-এর মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত বেশ কমে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ঝুঁকি এড়াতে এসব ব্যবস্থা ব্যবহারে কিছুটা সতর্ক হওয়া লাগতে পারে। 

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গণমাধ্যমের এসব খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবসময়ই আরও বেশি অস্ত্রের প্রয়োজন।’ কিছু অস্ত্রের সরবরাহ পর্যাপ্ত হলেও কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে টানাপোড়েন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করলেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। 

মজুত সম্পর্কিত প্রশ্ন এড়িয়ে সেনাসচিব ড্রিসকল বলেন, ‘বিশ্বের ইতিহাসের যেকোনো দেশের চেয়ে আমাদের অস্ত্রের মজুত বিশাল এবং নতুন ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা এটি আরও শক্তিশালী করে তুলব।’ 

সূত্র: জাপান টুডে 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম