Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরান ইন্টারন্যাশনালের জরিপ

বিয়ে করতে চান না ৯০ শতাংশ ইরানি

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

বিয়ে করতে চান না  ৯০ শতাংশ ইরানি

জরিপে প্রায় ১ লাখ মানুষ অংশ নেন। ফাইল ছবি

Advertisement

ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিয়ে করতে ও সন্তান নিতে চান না প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন (৯০ শতাংশ) নাগরিক।  ইরান ইন্টারন্যাশনালের ইনস্টাগ্রাম পেজের এক সাম্প্রতিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

এই জরিপে প্রায় ১ লাখ মানুষ অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি মানুষ মন্তব্যও করেছেন।

অংশগ্রহণকারীদের মন্তব্যে বারবার উঠে এসেছে অর্থনৈতিক চাপ, বাড়িভাড়া ও আবাসন খরচ, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা।

অনেকেই বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার শুরু করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। 

কেউ কেউ জানান, নিজেদের খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন; সেখানে জীবনসঙ্গী বা সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।


আবার অনেকে বিয়ে বা সন্তান নিতে চাইলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সামাজিক পরিবেশ না থাকায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল মুদ্রার বড় প্রভাব

ইরান বহু বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে দেশটির মুদ্রার মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং বাড়ি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিভিন্ন নীতিও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। তবে ইরানের অর্থনৈতিক সংকটে এসব কারণের ভূমিকা কতটা, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।

বিয়েকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ মনে করছেন অনেকে

শুধু অর্থনৈতিক সমস্যাই বিয়ে থেকে দূরে থাকার কারণ নয়। জরিপে অনেকেই নিজেদের বিবাহবিচ্ছেদ বা ব্যর্থ দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।


কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতিতে বিয়েকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন। আবার যারা ইতোমধ্যে বিবাহিত, তাদের অনেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় উদ্বেগ

জরিপে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বড় একটি বিষয় হিসেবে দেখা গেছে। অনেকে বলেছেন, তারা সন্তান নিতে চান। কিন্তু এমন একটি সমাজে সন্তানকে বড় করতে চান না, যেখানে দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

কিছু অংশগ্রহণকারী আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তান নেওয়া যেন ‘অপরাধ’ বা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। কারণ, তারা মনে করেন সন্তানকে পর্যাপ্ত মানের জীবন বা নিরাপদ ভবিষ্যৎ দেওয়ার নিশ্চয়তা তাদের নেই।

পরিবেশগত সংকটও বাড়াচ্ছে দুশ্চিন্তা

ইরানের সংকট শুধু অর্থনীতি বা রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটি বায়ুদূষণ, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট, বনাঞ্চলে আগুন এবং পরিবেশের অবনতির মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্বল নীতি, পরিবেশ সুরক্ষার ঘাটতি, দুর্নীতি ও পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব এসব সমস্যা আরও বাড়িয়েছে। ফলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও হতাশা

জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্কের কথা বলেছেন।


বছরের পর বছর অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেশটিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন, প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধও মানুষের হতাশা বাড়িয়েছে।

অনেকের কাছে তাই বিয়ে বা সন্তান নেওয়া এখন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং ইরানে ভবিষ্যৎ জীবন আদৌ কেমন হতে পারে—সেই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

কারা অংশ নিয়েছেন জরিপে?

জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে ৬৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৩২ শতাংশ নারী। সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী ছিলেন ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সি, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৪০.৩ শতাংশ। এরপর ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সিরা ছিলেন ২৯.২ শতাংশ।

১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সিদের হার ছিল ১৩.৩ শতাংশ এবং ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সিদের ৯.৮ শতাংশ।

জরিপের সঙ্গে ১২ হাজারের বেশি মন্তব্যও জমা পড়েছে। এসব মন্তব্যে অংশগ্রহণকারীরা কেন বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিষয়টি শুধু বিয়ে বা সন্তান পালনের খরচ বহন করতে পারার প্রশ্ন নয়। অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পরিবেশগত সমস্যাগুলো মিলেই অনেক ইরানির ভবিষ্যৎ ভাবনাকে প্রভাবিত করছে।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম