তেলকে টপকে কলম্বিয়ার রপ্তানির শীর্ষে কোকেন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ এএম
বিশ্বের মোট কোকেন সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশই কলম্বিয়া থেকে আসে। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেল বিক্রির আয়কে ছাড়িয়ে গেছে কোকেনের অবৈধ রপ্তানি। ফলে কোকেন এখন কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। মেডেলিনভিত্তিক ইএএফআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কলম্বিয়া থেকে অবৈধভাবে রপ্তানি হওয়া কোকেনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশটির পেট্রোলিয়াম খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্বের প্রধান কোকেন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে কলম্বিয়ার অবস্থানও এতে স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বের মোট কোকেন সরবরাহের প্রায় ৭০ শতাংশই কলম্বিয়া থেকে আসে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার বৈধ রপ্তানি খাতগুলোর তুলনায় কোকেনের অবৈধ বাণিজ্যের আকার এখন অনেক বড়। গবেষকদের হিসাবে, রপ্তানি আয়ে কয়লা রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে, যার পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে বৈধভাবে রপ্তানি করা সোনা, যার আয় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। অবৈধ সোনা উত্তোলন থেকেও আয় হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কোকেনের অবৈধ ব্যবসা এখন কলম্বিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশের সমান। গত এক দশকে দেশটির অর্থনীতিতে অবৈধ কোকেন ব্যবসার প্রভাব দ্রুত বেড়েছে। ২০১৩ সালে জিডিপির মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশের সমান থাকা এই অর্থনীতি ২০২৪ সালে ৪ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।
এ সময়ে কলম্বিয়ায় বছরে কোকেন উৎপাদনও প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। ২০১৩ সালে যেখানে বছরে ৩০০ মেট্রিক টনেরও কম কোকেন উৎপাদিত হতো, ২০২৪ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে কোকেন ব্যবসায় উৎপাদন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত দামের বিশাল পার্থ্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
কলম্বিয়ার গ্রামীণ এলাকায় এক কেজি কাঁচা কোকা পাতার দাম প্রায় ৪৬৮ ডলার। গোপন ল্যাবে প্রক্রিয়াজাত করে একই পরিমাণ কোকা পাতা থেকে তৈরি কোকেন হাইড্রোক্লোরাইডের মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১,৪০০ ডলারে।
এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছালে দাম আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কলম্বিয়ার অপরাধী চক্রগুলোর রপ্তানিমূল্য গড়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫ হাজার ৯২০ ডলার। ইউরোপের মতো গন্তব্য বাজারে পাইকারি পর্যায়ে একই কোকেনের দাম ৭৮ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে।
গবেষকদের মতে, কলম্বিয়ার অপরাধী গোষ্ঠীগুলো এখন দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক মাদক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে বিদেশের বাজারে তৈরি হওয়া বিপুল মুনাফার একটি বড় অংশও তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছে।
ফলে কোকেনের অবৈধ বাণিজ্য শুধু মাদকপাচারের সমস্যা নয়, বরং ধীরে ধীরে কলম্বিয়ার অর্থনীতির একটি বড় ও প্রভাবশালী অংশে পরিণত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু


