‘নটি বয়’র সফল উৎক্ষেপণ, মহাকাশে ভারতের নতুন জয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে ইওএস-০৫ নামে একটি অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ২টা ৫৫ মিনিট। যখন ভারতের বেশিরভাগ মানুষ গভীর ঘুমে, তখন অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় চলছিল ভিন্ন এক ব্যস্ততা। মিশন কন্ট্রোল রুম, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্র্যাকিং স্টেশনে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ জন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও সহায়ক কর্মী উৎকণ্ঠা ও ক্লান্তি সামলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন।
এর মাত্র ১৯ মিনিট পর, ভোর ৩টা ১৪ মিনিটে, উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার খবর আসে। মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণকক্ষজুড়ে নেমে আসে স্বস্তি। বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে দেখা যায় হাসি, করমর্দন ও উচ্ছ্বাস।
বিজ্ঞান-বিষয়কমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এই সাফল্যকে ভারতের মহাকাশ অভিযানে ‘আরেকটি বড় লাফ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সফল উৎক্ষেপণের জন্য ইসরোর পুরো দলকে অভিনন্দন জানান।
এদিন জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে ইওএস-০৫ নামে একটি অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হয়। এটি জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ছবি তুলতে সক্ষম ভারতের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট। দৃশ্যমান আলো, ইনফ্রারেড, মাল্টি-স্পেকট্রাল ও হাইপারস্পেকট্রাল—বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উন্নত মানের ছবি সংগ্রহ করতে পারবে উপগ্রহটি।
এই সাফল্য ইসরোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর আগে পরপর দুটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য
পিএসএলভি রকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পিএসএলভি’রব্যর্থতার পর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে ইসরোকে দীর্ঘ তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
বর্তমানে পিএসএলভি বহরের উৎক্ষেপণ স্থগিত রয়েছে। প্রকৌশলীরা বিভিন্ন পরীক্ষা ও সংশোধনমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের ব্যর্থতাগুলোতে কোনো নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রকেট উৎক্ষেপণ অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তি—এ কারণেই মহাকাশে নিয়মিত রকেট পাঠানোর সক্ষমতা বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের রয়েছে।
শ্রীহরিকোটা থেকে এটি ছিল কোনো বড় রকেটের ১০৭তম উৎক্ষেপণ।
‘নটি বয়’ এবার দিল স্বস্তি
পিএসএলভি-এর ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় এবার দায়িত্ব পড়ে জিএসএলভি এমকে ২-এর ওপর। ইসরো এই রকেটটির নাম মজা করে ‘নটি বয়’ রেখেছিল।
এর কারণও আছে। এখন পর্যন্ত ১৯টি উৎক্ষেপণের মধ্যে ৬টি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রকেটটির যাত্রা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং ও নাটকীয়।
তবুও এই একই রকেট ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


