Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

ভারতের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের অভিনব আন্দোলন: জেন-জি থেকে এবার মাঠে জেন-আলফা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ভারতের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের অভিনব আন্দোলন: জেন-জি থেকে এবার মাঠে জেন-আলফা

ভগ্নপ্রায় ভবন, শিক্ষক সংকট এবং মৌলিক সুবিধার অভাবে জর্জরিত ভারতের গ্রামীণ এলাকার সরকারি স্কুলগুলো। দীর্ঘদিনের এই অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এবার মুখ খুলতে শুরু করেছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ছোট ছোট শিশুদের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশের সামুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২২ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে না গিয়ে বাইরে অবস্থান নেয়। বিদ্যালয়ের পুরনো ও জীর্ণ ভবন এবং নিরাপত্তার দাবিতে লাল-সাদা চেক ইউনিফর্ম পরা ছোট্ট শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবাদ জানায়। 

এর আগে ২০২৩ সালে একটি দেওয়াল ধসে এক ছাত্রীর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ভবন মেরামতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত ২২ আগস্ট কোমলমতি এসব শিশুর আন্দোলনের মুখে শিক্ষা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যায়। 

শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যে জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে এমন বেশ কিছু বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। মূলত অবহেলায় ধুঁকতে থাকা গ্রামীণ সরকারি স্কুলগুলোর বেহাল দশা, শিক্ষক সংকট, বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ না থাকার প্রতিবাদেই এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা যেমন সামনে এসেছে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্যও এটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের চাকরির ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলনের পর, স্কুল পড়ুয়া শিশুদের এই আন্দোলনকে ‘জেন-আলফা’ প্রজন্মের নতুন রাজনৈতিক জাগরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, ভারতের সরকারি পরিসংখ্যানে শিক্ষাব্যবস্থায় নানা উন্নতির দাবি করা হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। অনেক স্কুলের কার্যক্রম এমন ভবনে চলে যা গবাদিপশু রাখার কাজেও ব্যবহার করা হয়। 

শিক্ষার অধিকার (আরটিই) আইন অনুযায়ী স্কুলে সব আবহাওয়া উপযোগী ভবন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত ১:৩০ থাকার কথা থাকলেও, সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে এমন ১ লাখেরও বেশি স্কুল রয়েছে যেখানে সব শ্রেণির জন্য মাত্র একজন শিক্ষক আছেন। এ ছাড়া নিম্নমানের দুপুরের খাবারের বিরুদ্ধেও বিহারসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে।

ভারতের জনসংখ্যার ৩০ শতাংশেরও বেশি মানুষের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজকের এই স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাই ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বড় ভোটাধিকার প্রয়োগকারী শক্তি হয়ে উঠবে। তাই সরকার যদি সময়মতো শিক্ষা খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এই তরুণ প্রজন্মের দাবিগুলো আমলে না নেয়, তবে তা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম