নেপালের চেয়েও মহাবিপর্যয়ের শঙ্কায় সিকিম!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের পাহাড়ি রাজ্য সিকিমের আকাশে নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কালো মেঘ জমছে। স্যাটেলাইট ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বরফ দিয়ে তৈরি পাহাড়ি হ্রদগুলো পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সেখানকার ৪০টি হিমবাহ হ্রদ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এর মধ্যে ১৬টি হ্রদ এতটাই আশঙ্কাজনক যে, সামান্য ভুলেই সেগুলোতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
সহজ কথায়, হিমালয়ের প্রচণ্ড ঠান্ডায় বরফ গলে পাহাড়ের উঁচুতে বিশাল সব হ্রদ বা পানির জলাধার তৈরি হয়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ায় এই বরফ গলছে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত। ফলে হ্রদগুলোতে পানির চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
যেকোনো সময় পাহাড়ের ধস, ভূমিকম্প বা অতিরিক্ত পানির চাপে এই হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। আর তা হলে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা নিচে নেমে এসে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।
এই আতঙ্কের মূল কারণ হলো সিকিমের অতীত স্মৃতি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে এভাবেই একটি বরফপাহাড়ের হ্রদ ফেটে নিচে প্রবল বন্যা নেমে এসেছিল। সেই বন্যায় অন্তত ৬০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং একটি বড় বাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি নেপাল সীমান্তেও ঠিক একই ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে, যা গোটা হিমালয় এলাকার জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়ে গেল।
পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য সরকার এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘শাকো ছা’ নামের হ্রদটি থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া লোনাক ও গুরুডংমার হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ের ওপর জমে থাকা এই বিপুল পানি কীভাবে নিরাপদ উপায়ে নিচে নামিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বড় বড় পাইপ বসিয়ে পাম্প করা, সাইফন পদ্ধতি ব্যবহার করা কিংবা সুরঙ্গ কেটে পানি অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো উপায় নিয়ে ভাবছেন। সেই সাথে পাহাড়ে নতুন ধরনের সেন্সর ও সাইরেন বসানো হচ্ছে, যাতে কোনো বিপদ ঘটার আগেই নিচু এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়।
সূত্র: দ্য হিন্দু।

-6a9ab39d27b24.jpg)