Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

শূকরের কিডনিতে রেকর্ড ৯ মাস বাঁচলেন রোগী

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

শূকরের কিডনিতে রেকর্ড ৯ মাস বাঁচলেন রোগী

ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসাবিজ্ঞান এক অসাধ্য সাধন করে দেখাল। মানবদেহে অঙ্গ না পাওয়ার মহামারি সামলাতে একটি বিশাল সাফল্যের গল্প তৈরি হয়েছে। জিনগতভাবে পরিবর্তন করা একটি শূকরের কিডনি এক ব্যক্তির শরীরে টানা ৯ মাস সফলভাবে কাজ করেছে, যা রোগীকে ডায়ালাইসিসের হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। 

সবচেয়ে আশার কথা হলো, শূকরের কিডনিটি সাময়িকভাবে ব্যবহার করার পর রোগী সুস্থ শরীরে একটি তাজা মানব কিডনিও পেয়ে গেছেন।

গল্পের নায়ক ৬৬ বছর বয়সি এক প্রবীণ মানুষ। টাইপ-টু ডায়াবেটিসের কারণে তার দুটি কিডনিই একদম নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। টানা দুই বছর ধরে সপ্তাহে সপ্তাহে রক্ত ছেঁকে ডায়ালাইসিস নিয়ে তিনি কোনোমতে বেঁচে ছিলেন। 

কোনো জীবিত স্বজন তাকে কিডনি দেওয়ার মতো ছিলেন না। আর সরকারি দীর্ঘ তালিকায় নাম লিখিয়ে মানুষের কিডনি পেতে পেতে তার হয়তো ৫ বছরেরও বেশি সময় লেগে যেত। চিকিৎসকদের বিশেষ হিসাব বলছিল, কিডনি না পেয়ে তার মারা যাওয়ার কিংবা তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি ছিল ৪০ শতাংশের বেশি!

এই কঠিন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। গত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তার শরীরে বসানো হয় একটি শূকরের কিডনি। তবে এটি কোনো সাধারণ পশুর কিডনি ছিল না; মানুষের শরীরের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য এর জিনে ৬৯টি পরিবর্তন আনা হয়েছিল। 

শরীরে বসানোর সাথে সাথেই কিডনিটি কাজ করা শুরু করে। রোগী দীর্ঘ ৯ মাস বা ২৭১ দিন কোনো ডায়ালাইসিস ছাড়াই একদম স্বাভাবিক জীবন কাটান।

নয় মাস পর যখন পশুর তৈরি সেই কিডনিটি ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে, চিকিৎসকরা তা বের করে নেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এত দিন পশুর অঙ্গ শরীরে থাকার পরও তার রক্তে কোনো বিষাক্ত ইনফেকশন ছড়ায়নি বা মানুষের টিস্যু গ্রহণে বাধা তৈরি করার মতো কোনো প্রতিকূলতা দেখা দেয়নি। 

ঠিক সেই সময়েই অলৌকিকভাবে একজন মৃত দাতার সাথে তার শরীরের টিস্যু প্রায় শতভাগ মিলে যায় এবং চিকিৎসকরা সেখানে সফলভাবে একটি সত্যিকারের মানব কিডনি বসিয়ে দেন।

বিজ্ঞানীরা এই সাফল্যকে বলছেন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ইতিহাসে এক ‘বিকল্প সেতু’। অঙ্গের চরম সংকটের এই যুগে, মানুষের কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ডায়ালাইসিসের যাতনা থেকে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখতে পশুদের অঙ্গ সাময়িক রক্ষাকবচ হতে পারে। এই একটি ঘটনা অন্তত লক্ষ লক্ষ কিডনি রোগীর মনে নতুন করে বেঁচে থাকার আলো জ্বালিয়ে দিল।

সূত্র: ইউরো নিউজ


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম