পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন, সেনাপ্রধানের হাতেই সব ক্ষমতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সামরিক কাঠামোর ক্ষমতার ভারসাম্যে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশটির সংসদ সম্প্রতি একটি নতুন আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে বিশাল পরিবর্তন এনে সেনাপ্রধানের ক্ষমতাই আরও পাকাপোক্ত করা হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে পাস হয় ‘পাকিস্তান ডিফেন্স ফোর্সেস অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট’-এর একটি সংশোধনী। এর ফলে গত বছর গঠিত ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান পদটি এখন পুরোপুরি আইনি স্বীকৃতি পেল।
বিলগুলো এতটাই দ্রুত পাস করা হয় যে, সেদিন সকালেই মন্ত্রিসভা এগুলো অনুমোদন দেয় এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংসদে পাস হয়ে যায়। বিগত বছরগুলোতে ভারতের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পরই মূলত সামরিক এই পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছিল।
যা পরিবর্তন হলো
১৯৭৬ সালের পর দেশটির উচ্চ সামরিক কমান্ডে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। এতদিন তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য ‘জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির (সিজেসিএসসি) চেয়ারম্যান’ নামে একটি পদ ছিল, যা এখন পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন তৈরি হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’। এই নতুন কাঠামোর প্রধান বা সিডিএফ করা হয়েছে বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে।
পুরোনো নিয়মে সিজেসিএসসি প্রধানের পদটি কেবল নামেমাত্র সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করত এবং নৌ বা বিমান বাহিনীর ওপর তার কোনো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু নতুন আইনে সিডিএফ-কে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী— তিনটিরই সরাসরি ‘অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ’ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে তিন বাহিনীর সব অভিযানের জন্য তিনি সরাসরি সরকারের কাছে জবাবদিহি করবেন।
তবে এই নতুন আইনের ফলে সামরিক বাহিনীতে সেনাবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য আরও বাড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দেশের পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত কমান্ডের প্রধান পদটিও এখন কেবল সেনাবাহিনী থেকেই পূরণ করা হবে, যা থেকে নৌ ও বিমান বাহিনীকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্য দুই বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার ও পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এ ছাড়া, সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা এতদিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকলেও, নতুন আইন অনুযায়ী এখন থেকে সেই ক্ষমতা একাই প্রয়োগ করতে পারবেন সিডিএফ। এর ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ল কিনা, তা নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
সূত্র: আল জাজিরা

