Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচন যেভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে ইরান সংঘাতের মোড়

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচন যেভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে ইরান সংঘাতের মোড়

প্রতীকী ছবি (এআই দিয়ে তৈরি)

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ভোটকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ এখন এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান উপদেষ্টারা চাইছেন, নির্বাচনের আগে যেন এই লড়াই কোনোভাবেই বড় কিংবা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নেয়। কারণ, মার্কিন পার্লামেন্টে ট্রাম্পের দল ‘রিপাবলিকান পার্টি’ খুব অল্প আসনের ব্যবধানে এগিয়ে আছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে সেই সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ভোটের আগে যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলার বদলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে। ইরান যেন তেল বিক্রি করে টাকা আয় করতে না পারে, সে জন্য ওয়াশিংটন একাধিক কঠিন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজের পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুরোপুরি রক্তপাত থামানো যায়নি। 

সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় শিশুসহ চারজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করে দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে এই যুদ্ধ দিন দিন বেশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। এর ফলে দৈনন্দিন খাবার ও জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। যে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জীবনযাত্রার খরচ কমানোর ও যুদ্ধ এড়িয়ে চলার, সেই ট্রাম্পের অধীনেই মানুষ মূল্যস্ফীতিতে হাঁসফাঁস করছে। 

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ৬৩ শতাংশ মানুষই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। বিরোধী ‘ডেমোক্র্যাট পার্টি’ এই মূল্যস্ফীতি আর যুদ্ধের বিষয়টিকে নির্বাচনের প্রধান হাতিয়ার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চাইলেও পরিস্থিতি কতটা শান্ত থাকবে, তা পুরোটাই নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান বুঝতে পারছে যে ট্রাম্প হয়তো নির্বাচনের ঝামেলা মেটার অপেক্ষায় আছেন এবং ভোট পার হলেই নতুন করে বড় হামলা চালাবেন। তাই তেহরানের দিক থেকে লাভ হতে পারে যদি তারা নির্বাচনের আগেই সংঘাত বাড়িয়ে দেয়। কম খরচের ড্রোন ব্যবহার করে বা তেলের জাহাজে বাধা দিয়ে তেল বাজারে সংকট তৈরি করতে পারলে ট্রাম্প ভোটের মুখে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক বিপাকে পড়বেন।

৩ নভেম্বরের ভোটের ফলই ঠিক করে দেবে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে। নির্বাচনে ট্রাম্পের দল জয়ী হলে তারা মনে করবে জনগণ যুদ্ধের পক্ষেই আছে এবং তারা ইরানের ওপর আরও বড় সামরিক আক্রমণ চালাতে পারে। 

অন্যদিকে, নির্বাচনে বিরোধী দল জয়ী হলে ট্রাম্পের হাত থেকে যুদ্ধের বাজেট কমানোর ক্ষমতা আসবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, নির্বাচনে হেরে গিয়ে ট্রাম্প যদি ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েন, তবে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতে পারেন, যা পুরো বিশ্বকে এক নতুন সংকটে ফেলবে।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম