জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় জয়ের পথে কট্টরপন্থি এএফডি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
বুথফেরত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার আভাস পেয়ে উচ্ছ্বসিত কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোটের পর প্রকাশিত প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। খবর সামা টিভির
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে প্রথমবারের মতো একটি কট্টর ডানপন্থি দল ক্ষমতায় যাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও এএফডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তবে তাদের এই সাফল্য দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি’র এই জয়ের ফলে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের রক্ষণশীল দল বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ।
এএফডি জাতীয় পর্যায়েও বর্তমানে জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে অভিবাসনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং ইউরো মুদ্রা থেকে বেরিয়ে আসা।
এএফডি’র স্যাক্সনি-আনহাল্টের প্রধান প্রার্থী ৩৫ বছর বয়সি উলরিখ জিগমুন্ড এই ফলাফলকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, মানুষ স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন চেয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের জন্য এএফডিকেই বেছে নিয়েছে। ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার পথে এই জয়কে প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন তিনি।
ফল প্রকাশের পর দলীয় সমর্থকেরা ম্যাগডেবুর্গ শহরে উল্লাস করেন। অনেকে জার্মানির পতাকা হাতে বিজয় উদযাপন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মন্তব্য ছাড়াই নির্বাচনের ফলাফলের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশের কট্টর ডানপন্থি নেতারাও এএফডি’রজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
এই ফলাফল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জার্মানির দুর্বল অর্থনীতি চাঙ্গা করতে তার পরিকল্পিত সংস্কার এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের ধরন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের ৮৭ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট।
জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক রিসার্চের প্রেসিডেন্ট মার্সেল ফ্রাটশার বলেন, এই নির্বাচন মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অনাস্থার ভোট।
মের্জ ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে ব্যবসাবান্ধব সংস্কার ও সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, এএফডি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।


-6a992188383cf.jpg)