পাবজি দিয়ে শুরু, মাত্র ২০ বছর বয়সেই বর্তমানে আয় লাখ লাখ টাকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অভাবের সংসার থেকে উঠে এসে ফ্রিল্যান্সিং ও ওয়েবথ্রি খাতে কাজের মাধ্যমে নিজের গল্পটা বদলে দিয়েছে ভারতের বিহারের ২০ বছর বয়সি এক যুবক।তিনি প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডডিটে শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন।
ওই যুবক জানান, মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর তিনি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে মায়ের কাছে বড় হয়েছেন।
ডিজিটাল দুনিয়ায় তার যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১৪ বছর বয়সে, যখন তিনি অনলাইনে নিজেই ডিজাইন এবং ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ শেখেন।
২০২০ সালে চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি এসপোর্টের (পাবজি) দলগুলোর জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন ও এডিটিংয়ের কাজ শুরু করেন এবং অনলাইনে ভালো যোগাযোগ গড়ে তোলেন। কিন্তু ভারতে পাবজি নিষিদ্ধ হওয়ার পর হঠাৎ করেই তার প্রাথমিক ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার থমকে যায়। ফলে ২০২০ সাল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত (২০২৪ সাল) তিনি চরম হতাশা ও একাকীত্বে ভুগেছেন।
নয়ডার চাকরি এবং কঠিন সংগ্রাম
পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন নাকি ফ্রিল্যান্সিংয়ে ফিরবেন—এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে তার পুরনো এক পরিচিতের কাছ থেকে নয়ডায় একটি ওয়েবথ্রি মার্কেটিং এজেন্সিতে কাজের সুযোগ আসে। কলেজ জীবন বাদ দিয়ে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নয়ডায় চলে যান এবং মাসিক ১৫,০০০ রুপি বেতনে চাকরিতে যোগ দেন, যেখানে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিল কোম্পানিটি।
তবে সেই অভিজ্ঞতা বেশ কঠিন ছিল। এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, নয়ডায় তিনি একটি আসবাবপত্রহীন ফাঁকা ঘরে তোশক আর ট্রাঙ্ক নিয়ে থাকতেন। তিন মাস পর কিছু আসবাবপত্র জোগাড় হলেও কোনো ভবিষ্যৎ না থাকা এমন একটি চাকরি করার কারণে তিনি নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে ওঠেন।
এক পর্যায়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ধূমপান ও মাদকের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন। ৫ মাস কাজ করার পর দুর্গাপূজার ছুটিতে বিহারে ফিরে আসেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আর সেখানে ফিরে যাবেন না।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
পরবর্তী কয়েক মাস আবারও হতাশার মধ্য দিয়ে কাটলেও তিনি নিজের ক্যারিয়ার পুনর্গঠনের উপায় খুঁজতে শুরু করেন। তিনি একটি প্রযুক্তি কমিউনিটিতে বিনামূল্যে ব্র্যান্ড ও লোগো ডিজাইনের সেবা দেওয়া শুরু করেন। সে সময় তার মাসিক আয় ছিল ২০০ থেকে ৩০০ ডলার।
পরবর্তীতে ওয়েবথ্রি নেটওয়ার্কের এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে সোশ্যাল মিডিয়া গ্রাফিক্সের জন্য মাসে ২০০ ডলারে কাজের প্রস্তাব দেন। যদিও সেই কাজটি একসময় বন্ধ হয়ে যায়, তবে তারা দুজনে মিলে ওয়েবথ্রি সেক্টরে আরও ক্লায়েন্ট খোঁজার সিদ্ধান্ত নেন।
বিগত মার্কেটিং এজেন্সির অভিজ্ঞতা তাকে পুরো ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে গভীর ধারণা দেয়, যা তাকে সাধারণ ডিজাইন সেবার গণ্ডি পেরিয়ে আরও বড় ওয়েবথ্রি-কেন্দ্রিক কাজ পেতে সাহায্য করে।
চলতি অর্থ বছরে তার আয় আরও বেড়ে গেছে। তিনি জানান, বর্তমানে তার ধারাবাহিক মাসিক আয় প্রায় ৪,০০০ ডলার এবং গত মাসেই তিনি তার সর্বকালের সর্বোচ্চ প্রায় ৬,৫০০ ডলার আয় করেছেন।
সাফল্য ও আত্মত্যাগ
নিজের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, তিনি জরুরি অবস্থার জন্য সঞ্চয় করেছেন, নিজের স্বপ্নের ম্যাকবুক প্রো কিনেছেন, মাকে কাজ থেকে অবসর দিয়েছেন এবং প্রতি কয়েক মাস পর তাকে সোনার গহনা উপহার দিচ্ছেন। পাশাপাশি, তারা সবসময় ভাড়া বাসায় থাকায় একটি নিজস্ব জমি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য টাকা জমানোর কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এই আর্থিক সাফল্যের পেছনে বড় ধরনের ব্যক্তিগত আত্মত্যাগ রয়েছে বলেও জানান এই তরুণ। তিনি জানান, আজও তাকে একাকীত্ব ও বন্ধুহীনতার সঙ্গে লড়াই করতে হয় এবং বাস্তবে কখনো তার কোনো প্রেমিকা ছিল না।
জীবনের এই গল্পটি শেয়ার করে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এটি অন্যদেরও নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করবে।
সূত্র: এনডিটিভি

-6a9fc5bbb09ff.jpg)