Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ঘুস নেওয়ার অপরাধে চীনের সাবেক গভর্নরের মৃত্যুদণ্ড

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

ঘুস নেওয়ার অপরাধে চীনের সাবেক গভর্নরের মৃত্যুদণ্ড

ঘুস নেওয়ার দায়ে চীনের শানসি প্রদেশের সাবেক গভর্নর জিন শিয়াংজুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।

Advertisement

ঘুস নেওয়ার দায়ে চীনের শানসি প্রদেশের সাবেক গভর্নর জিন শিয়াংজুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই সাজা কার্যকর করা হবে না। মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিন শিয়াংজুন ১৪ কোটি ৮০ লাখ ইউয়ানের বেশি ঘুস নিয়েছেন—এমন অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) হেনান প্রদেশের শিনইয়াং ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট জিন শিয়াংজুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তার আজীবনের জন্য রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘুস হিসেবে নেওয়া অর্থ থেকে অর্জিত আয় ও ওই অর্থের সুদও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত জুনে মামলাটির প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত জানায়, জিনের বিরুদ্ধে প্রমাণিত ঘুসের পরিমাণ ছিল ‘অসাধারণভাবে বিপুল’। তার কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে তার অপরাধ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো গুরুতর বলে আদালত মনে করে।

তবে কিছু প্রশমনকারী বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর জিন নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তদন্তকারীদের কাছে এমন কয়েকটি ঘুসের ঘটনার তথ্য দেন, যেগুলো আগে জানা ছিল না। আদালতে তিনি দোষ স্বীকারের পাশাপাশি নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেন।

আদালত আরও জানিয়েছেন, জিনের অবৈধভাবে অর্জিত কিছু অর্থ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।    

চীনের আইনে মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে।

জিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ

জিন শিয়াংজুন শানসি প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টি কমিটির সাবেক উপপ্রধানও ছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সময়ে সরকারি পদ থেকেও তাকে বরখাস্ত করা হয়।

তদন্তে বলা হয়েছে, সরকারি পদ ব্যবহার করে জিন বিভিন্ন ব্যক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেন। এর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের চুক্তি পাইয়ে দেওয়ার মতো বিষয় ছিল। এর বিনিময়ে তিনি বিপুল অর্থ ও উপহার গ্রহণ করেন।

সাবেক জরুরি ব্যবস্থাপনামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

এদিকে একই দিনে চীনের সাবেক জরুরি ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ওয়াং শিয়াংশির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

চীনের শীর্ষ দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা মঙ্গলবার জানায়, গুরুতর শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াংকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সরকারি পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ওয়াং দলীয় সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। অন্যদের সুবিধা পাইয়ে দিতে তিনি অন্যায়ভাবে নিজের প্রভাবও ব্যবহার করেছেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম