Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনের ‘ডুমসডে প্লেন’, ভেতরে রয়েছে যেসব অত্যাধুনিক ব্যবস্থা

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনের ‘ডুমসডে প্লেন’, ভেতরে রয়েছে যেসব অত্যাধুনিক ব্যবস্থা

ফাইল ছবি

Advertisement

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত নেতাদের একজন হিসেবে তার সফর ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। এ সময় তার বহরে থাকা দুটি একই ধরনের উড়োজাহাজ একসঙ্গে উড়েছে, যার একটি ছিল ডিকয় বা বিভ্রান্তি তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিমান।

রাশিয়ার তৈরি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ মডেলের এই বিমানকে প্রায়ই ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ বলা হয়। অত্যন্ত সুরক্ষিত ও বিশেষভাবে পরিবর্তিত প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ ছাড়া পুতিন খুব কমই ভ্রমণ করেন। 

কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা

পুতিনের বহরে থাকা দুটি অভিন্ন ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ উড়োজাহাজ একই সময়ে আকাশে ওড়ে। এর উদ্দেশ্য হলো রুশ প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন বিমানে রয়েছেন, তা যেন বাইরে থেকে নিশ্চিতভাবে বোঝা না যায়। নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের দ্বৈত সুরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর কাছে নতুন নয়। অতিরিক্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পুতিন নিয়মিতভাবেই অন্যান্য দেশ সফরের সময় একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেন।

পুতিনের ‘ডুমসডে প্লেন’

প্রেসিডেন্ট উড়োজাহাজটি রাশিয়ার তৈরি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০-এর বিশেষভাবে পরিবর্তিত সংস্করণ। ইলিউশিন ডিজাইন ব্যুরো ১৯৮০-এর দশকে এই উড়োজাহাজ তৈরি করে। এটি রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

চার ইঞ্জিনের দীর্ঘপাল্লার এই উড়োজাহাজটি চরম পরিস্থিতিতে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আকাশে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি।

দীর্ঘপাল্লার আইএল-৯৬ প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’-এ অ্যাভিয়াডভিগাতেল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন রয়েছে। এটি একবারে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। ফলে দীর্ঘ যাত্রায় একাধিকবার জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

বিমানটির দৈর্ঘ্য ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার। রাশিয়ার স্পেশাল ফ্লাইট স্কোয়াড্রন এই উড়োজাহাজ পরিচালনা করে। প্রেসিডেন্টের সব ধরনের বিমানভ্রমণের দায়িত্বও এই স্কোয়াড্রনের ওপর।

জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে আইএল-৯৬-৩০০পিইউ একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগ করা সম্ভব। বিমানটিতে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট যোগাযোগ, সুরক্ষিত রেডিও ও ডেটা চ্যানেল রয়েছে, যা নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে।

রয়েছে বিলাসবহুল ব্যবস্থা

শুধু নিরাপত্তা নয়, বিলাসিতার দিক থেকেও ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বেশ সমৃদ্ধ। এতে প্রেসিডেন্টের জন্য আলাদা স্যুট, শোবার ঘর, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর ও খাবারের জায়গা রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বোর্ডরুমের আদলে বড় একটি সম্মেলনকক্ষ। বিমানের অভ্যন্তরে সোনার প্রলেপ দেওয়া বিভিন্ন সামগ্রী, উন্নতমানের কাঠের কাজ এবং দামি চামড়া ও অন্যান্য বিলাসবহুল উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম