হরমুজ ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না বাহরাইন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানে প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নেবে না বাহরাইন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানে প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশ নেবে না বাহরাইন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। খবর আরব নিউজের
বাহরাইন বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামোয় ইরানের হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। হামলার পরিণতি নিয়ে নীরব থাকা বা ‘তুষ্টির নীতি’ গ্রহণ করেও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলা এবং বাহরাইনে একটি অ্যামোনিয়া ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি এখনো রয়েছে। বাস্তবতা উপেক্ষা করে কোনো সংলাপ হতে পারে না বলে জানিয়েছে দেশটি।
বাহরাইন জানিয়েছে, ওমানকে তাদের এই অবস্থানের কথা সরকারি মাধ্যমে জানানো হয়েছে। তবে দেশটি জোর দিয়ে বলেছে, তারা এখনো সংলাপের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ওমানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে তারা গুরুত্ব দেয়।
ওমানে সোমবার উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ইরান ও ইরাকের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
২০১৬ সালে এক আঞ্চলিক সংকটের সময় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল বাহরাইন। এবার তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালি যেন কোনো বৈষম্য, ফি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই উন্মুক্ত থাকে এবং এ ব্যবস্থায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশকেই যুক্ত করতে হবে।
বাহরাইন দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য চারটি শর্তও দিয়েছে—
- হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
- হামলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
- রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে এবং কোনো দেশের ভূখণ্ড অন্য দেশে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
- বিরোধগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
বাহরাইনের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে ভবিষ্যতের যেকোনো ব্যবস্থা ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের অনুমোদন থাকা প্রয়োজন।
বাহরাইন আরও বলেছে, তারা শান্তির পথ বন্ধ করছে না। তবে ন্যায়ের বিনিময়ে শান্তি চায় না তারা। দেশটির ভাষায়, ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি কেবল এমন একটি সাময়িক বিরতি, যার শেষ আবারও সংঘাতে।


