Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

সাড়ে ৬ কোটি বছর পর মিলল পূর্ণবয়স্ক ডাইনোসরের চলার পথ

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

সাড়ে ৬ কোটি বছর পর মিলল পূর্ণবয়স্ক ডাইনোসরের চলার পথ

উত্তর ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মন্টানা সীমান্তের কাছে এই পথচলা আবিষ্কার হয়েছে। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

জীবাশ্মবিদেরা এমন একটি জীবাশ্ম পদচিহ্নের সন্ধান পেয়েছেন, যেটিকে পূর্ণবয়স্ক টাইরানোসরাস রেক্স বা ডাইনোসরের প্রথম পরিচিত চলার পথ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মন্টানা সীমান্তের কাছে এই আবিষ্কার হয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় পাশাপাশি থাকা চারটি সংযুক্ত পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। নতুন আবিষ্কারটি নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ভার্টিব্রেট প্যালেওন্টোলজির জার্নালে। গবেষকদের দাবি, এটি পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রথম পরিচিত চলার পথ।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নর্থ ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মন্টানা সীমান্তের কাছে মারমার্থ এলাকার ফেডারেল জমিতে গত বছর এই পদচিহ্নগুলো আবিষ্কার করা হয়।

প্রতিটি পায়ের ছাপের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট বা ০.৯ মিটার। একটি ছাপ থেকে পরবর্তী ছাপের দূরত্ব প্রায় ১৩ ফুট বা ৪ মিটার। ছাপগুলোর আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এগুলোকে প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্সের (ডাইনোসর) বলে শনাক্ত করেছেন।

এর আগে বিশ্বে পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের মাত্র দুটি নিশ্চিত পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছিল—একটি নিউ মেক্সিকো এবং অন্যটি মন্টানায়। তবে সেগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন পদচিহ্ন। ফলে প্রাণীটি কীভাবে চলাফেরা করত, সে বিষয়ে সেগুলো থেকে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সের মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্মবিদ্যার জ্যেষ্ঠ কিউরেটর টাইলার লাইসন বলেন, হাড় প্রাণী সম্পর্কে অনেক তথ্য দেয়, কিন্তু পায়ের ছাপ তার আচরণের একটি মুহূর্তকে ধরে রাখে।

আর একাধিক ছাপের ধারাবাহিকতা থাকলে প্রাণীটি কীভাবে চলছিল, তা অনুসরণ করা যায়।

গবেষকরা উচ্চ-রেজল্যুশনের থ্রিডি স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পায়ের ছাপগুলোর বিস্তারিত রেকর্ড তৈরি করেছেন। এতে মূল পদচিহ্ন নষ্ট না করেই সেগুলো ডিজিটালি বিশ্লেষণ এবং প্রতিরূপ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

পদচিহ্ন থেকে টি-রেক্সের গতিরও ধারণা পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রাণীটি ঘণ্টায় প্রায় ৩.৫ থেকে ৪.৫ মাইল গতিতে চলছিল। অর্থাৎ একজন মানুষের দ্রুত হাঁটার গতির কাছাকাছি। গবেষকদের ধারণা, টি-রেক্সটি তখন দৌড়াচ্ছিল না, হাঁটছিল।

তবে কোটি কোটি বছর ধরে আবহাওয়া ও ক্ষয়ের কারণে পদচিহ্নগুলোর কিছুটা পরিবর্তন হওয়ায় গতির এই হিসাব পুরোপুরি নির্ভুল নয় বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

গবেষকরা চারটি পদচিহ্নের মধ্যে তিনটি উদ্ধার করে ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। হেলিকপ্টারে করে সেগুলো স্থানান্তর করা হবে। সেখানে এগুলো সংরক্ষণ ও আরও গবেষণা করা হবে।

প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণ করত ডাইনোসর। ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ দিকে এটি ছিল পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষ শিকারি এবং ডাইনোসরদের বিলুপ্তির আগে পৃথিবীতে থাকা শেষ দিকের অ-পাখি ডাইনোসরগুলোর একটি। পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের হিপ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ১২ থেকে ১৩ ফুট হতে পারত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম