বাব-আল মান্দেব দখল নিতে কতজন হুথি সেনা লড়েছিল, জানাল ইয়েমেন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিতে হুথিরা ৭৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছিল। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়েমেনের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিতে হুথিরা ৭৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছিল। এমন চমকপ্রদ দাবি করেছে দেশটির সরকারপন্থি বাহিনী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকার-সমর্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাদিক দোয়াইদ এ দাবি করেন। তিনি জানান, এই অভিযান পরিচালনায় ইরানি ও লেবানিজ বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত ছিলেন।
সাদিক দোয়াইদ বলেন, পশ্চিম উপকূলে চালানো এসব অভিযানের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি কয়েক মাস আগেই নেওয়া হয়েছিল।
তার দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের ব্যবস্থাপনায় ইরানি ও লেবানিজ বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছে, তারা পশ্চিম উপকূলে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে লড়াই করছে। পাশাপাশি সৈকত ও দ্বীপগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছে বাহিনীটি।
দোয়াইদের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হুথিরা ১৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৪৫টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই ১৫টি নৌযান ব্যবহার করেছে।
এর মধ্যে সরকারপন্থি বাহিনীর কমান্ডার এবং ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের উপপ্রধান তারিক সালেহর নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ্য করে ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৮টি ড্রোন হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাম্প্রতিক নতুন লড়াই আবারও দেশটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ইসরাইল এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হয়ে উঠেছে। এবার বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

