Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

৫ হাজার কোটি রুপির মালিক, তবু কেন একদিনের জন্য ভিখারি হলেন এমএলএ

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮ এএম

৫ হাজার কোটি রুপির মালিক, তবু কেন একদিনের জন্য ভিখারি হলেন এমএলএ

পরাগ শাহ ভারতের অন্যতম ধনী রাজনীতিক।

Advertisement

মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্টের বিজেপির বিধায়ক পরাগ শাহ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি রুপি। অর্থ দিয়ে কেনা যায় এমন সব ধরনের ভোগ-বিলাসের সুযোগ থাকলেও একদিনের জন্য তিনি নিজেকে ভিখারি সাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছেন, মানুষের কাছে হাত পেতেছেন। শুধু তাই নয়, রোদ-বৃষ্টি, শারীরিক পরিশ্রম ও পথচারীদের কটূক্তিও সহ্য করেছেন তিনি। 

পরাগ শাহ ভারতের অন্যতম ধনী রাজনীতিক। তবে নিজের আধ্যাত্মিক গুরুর পরামর্শে সাময়িকভাবে বিলাসবহুল গাড়ি, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে দেন তিনি।

জৈন ধর্মের চাতুর্মাস চলাকালে পরাগ শাহের আধ্যাত্মিক গুরু নম্রমুনি মহারাজ তাকে একটি ব্যতিক্রমী পরামর্শ দেন। জীবনের বাস্তবতা এবং প্রতিদিন মানুষের মুখোমুখি হওয়া নানা কষ্ট উপলব্ধি করতে তাকে একদিনের জন্য ভিখারি হওয়ার পরামর্শ দেন গুরু।

গুরুর নির্দেশ মেনে নিজের সব ধরনের আরাম-আয়েশ ছেড়ে দেন কোটিপতি এই বিধায়ক। মেকআপের মাধ্যমে নিজেকে অসহায় ভিখারির বেশে সাজিয়ে ঘাটকোপারের রাস্তায় নেমে পড়েন তিনি। রাস্তায় মানুষের কাছে হাত পাতেন, সেখানেই খাবার খান এবং ভিখারি হিসেবে জীবনযাপনের বাস্তব কষ্ট ও অপমান অনুভব করেন।

এই অভিজ্ঞতা এতটাই গভীরভাবে তাকে নাড়া দেয় যে, পরে পরাগ শাহ মেকআপ তুলে আবার সেই জায়গাগুলোতে যান, যেখানে তিনি ভিখারি সেজে গিয়েছিলেন। সেখানে মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

পরাগ শাহ বলেন, এটা আমার গুরুর নির্দেশ ছিল। তাই একদিন ভিখারি সেজে ঘাটকোপারের রাস্তায় ঘুরেছি। তিনি স্বীকার করেন, অর্থ, খ্যাতি ও ক্ষমতা একজন মানুষের মধ্যে অহংবোধ তৈরি করে। এই অভিজ্ঞতা তাকে সেই অহংবোধ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতেও তাকে মাটির কাছাকাছি থাকতে সহায়তা করবে।

তবে ভিখারি সাজার সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। পরাগ শাহ বলেন, আমি যখন ভিখারি সেজে নিজেরই আবাসিক কমপ্লেক্সে ঢুকেছিলাম, তখন আমার নিজের নিরাপত্তাকর্মীই আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।

তিনি আরও বলেন, আমার একজন বন্ধু আছেন, যিনি প্রায়ই মানুষকে সাহায্য করেন এবং আমাকে কিছু না কিছু দেওয়ার জন্য সবসময় জোর করেন। কিন্তু আমি যখন ভিখারি সেজে তার কাছে গিয়েছিলাম, তখন তিনিও আমাকে তাড়িয়ে দেন।

এই ঘটনা পরাগ শাহকে একটি কঠিন শিক্ষা দিয়েছে। তার উপলব্ধি, মানুষ অনেক সময় ব্যক্তিকে নয়, তার অর্থ, পদ ও ক্ষমতাকেই মূল্যায়ন করে।

পরাগ শাহ বলেন, মুম্বাইয়ে এখনো মানবিকতা আছে। কয়েকজন তরুণ আমাকে দেখে ২০ রুপি দিয়েছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম