ওয়েইসির জনসভার বিরোধিতায় মুসলিম সংগঠন, নেপথ্যে যে কারণ
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির জনসভার বিরুদ্ধে এবার প্রতিবাদে নেমেছে মুসলিম সংগঠন। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ওয়েইসির প্রস্তাবিত জনসভা বাতিলের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম উৎসব কমিটি। তাদের অভিযোগ, ওয়েইসির বক্তব্যের কারণে ভোপালের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হতে পারে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোপালের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে মুসলিম ইস্যু নিয়ে বড় জনসভা করার কথা রয়েছে ওয়েইসির। তার দল মধ্যপ্রদেশে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সেই কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতিও পেয়েছে দলটি। কিন্তু অনুমতি পাওয়ার পরই ওই সভার বিরোধিতা শুরু করেছে ভোপালের মুসলিম উৎসব কমিটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ওয়েইসির সভার অনুমতি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
মুসলিম উৎসব কমিটির বক্তব্য, ভোপাল বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের শহর। এখানকার গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। এমন একটি শহরে ওয়েইসির মতো নেতার রাজনৈতিক সভা থেকে সংবেদনশীল বক্তব্য এলে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সংগঠনটির আরও দাবি, যে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে ওয়েইসির সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে বর্তমানে গণেশ উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চলছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের উত্তেজক বক্তব্য বা বিতর্কিত মন্তব্য হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ওয়েইসির সভার অনুমতি দেওয়া নিয়েও প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন করেছে মুসলিম উৎসব কমিটি। তাদের যুক্তি, আইনশৃঙ্খলার আশঙ্কার কথা বলে যদি বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিংয়ের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া না হয়, তাহলে ওয়েইসির সভাকে কেন অনুমতি দেওয়া হলো। একই কারণে ওয়েইসির কর্মসূচির অনুমতিও বাতিল করা উচিত বলে দাবি করেছে তারা।
মুসলিম উৎসব কমিটির নেতাদের অভিযোগ, ওয়েইসির রাজনীতি অনেক সময় ধর্মীয় বিভাজন বাড়িয়ে দিতে পারে। তাদের মতে, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরই পড়তে পারে। তাই মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেই তারা ওয়েইসির সভার বিরোধিতা করছে।
ওয়েইসিকে ভারতের মুসলিম রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা হয়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি নিজের দলকে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মধ্যপ্রদেশেও সেই রাজনৈতিক বিস্তারের অংশ হিসেবে ভোপালের কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে সভার আগে মুসলিম সংগঠনের প্রকাশ্য বিরোধিতা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি করেছে। একই সম্প্রদায়ের একটি সংগঠন কেন ওয়েইসির মতো মুসলিম রাজনীতির পরিচিত মুখের সভা বন্ধের দাবি জানাচ্ছে, তা নিয়েই এখন ভোপালের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

-6aa8c726e6654.jpg)