নিজেকেই ভোট দিতে পারেননি বিজেপির প্রার্থী, পেলেন ১ ভোট
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজস্থানের পুরভোটের ফল ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। একটি ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১টি ভোট। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে ওয়ার্ড থেকে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সেই ওয়ার্ডের ভোটারই নন তিনি। ফলে নিজের প্রার্থীপদে নিজেকেই ভোট দিতে পারেননি বিজেপি প্রার্থী কৈলাস চন্দ্র।
রাজস্থানের দিদওয়ানা কুচামন জেলার পরবতসর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন কৈলাস চন্দ্র। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তার প্রাপ্ত ভোট মাত্র ১টি। ওই ওয়ার্ডে কংগ্রেসের হিনা খানম পেয়েছেন ৩৭৬ ভোট। নির্দল প্রার্থী রশিদ খান পেয়েছেন ১৯৫ ভোট। ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় অনেক পিছিয়ে থেকে মাত্র ১ ভোটেই থামতে হয়েছে বিজেপি প্রার্থীকে।
কৈলাস চন্দ্রের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, তিনি ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার নন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। তার পরিবারের ভোটও ১২ নম্বর ওয়ার্ডেই রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হলেও নিজের ভোটটি তিনি নিজে দিতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে সময় দলের পক্ষ থেকে কৈলাস চন্দ্রকে ওই ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার জন্য বলা হয়। দলের নির্দেশ মেনে তিনি মনোনয়ন জমা দেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর তার ঝুলিতে আসে মাত্র ১ ভোট।
এই ঘটনা সামনে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী কীভাবে একটি ওয়ার্ডে মাত্র ১টি ভোট পেলেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, কংগ্রেস যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে না পারে, সে জন্য নিয়ম রক্ষার প্রার্থী হিসেবে কৈলাস চন্দ্রকে দাঁড় করানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে বিজেপির সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রার্থী বাছাইয়ের সময় দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কী ছিল, কেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারকে সেখানে প্রার্থী করা হলো, সে বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
শুধু বিজেপি নয়, পরবতসর পুরসভায় রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টির এক প্রার্থীর ফলও নজর কেড়েছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে দলটির প্রার্থী ভাঁওরলাল পেয়েছেন মাত্র ১ ভোট। একটি ওয়ার্ডে কোনো প্রার্থীর মাত্র ১ ভোট পাওয়া সাধারণ ঘটনা নয়। ফলে তার ফল নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে রাজস্থানের পুরভোটে সামগ্রিকভাবে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যের ৩০৯টি নগর স্থানীয় সংস্থায় ভোট গণনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি পৌর নিগম, ৫১টি পৌর পরিষদ এবং ২৪৮টি পৌরসভা। সর্বশেষ হিসাবে বিজেপি ৪ হাজার ২৩টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে। কংগ্রেস জয় পেয়েছে ৩ হাজার ৪৩৮টি ওয়ার্ডে। নির্দল প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৫টি ওয়ার্ডে। ১০টি পৌর নিগমের মধ্যে বিজেপি পাঁচটিতে এগিয়ে রয়েছে। জয়পুর, আলওয়ার, উদয়পুর, কোটা ও ভিলওয়ারায় বিজেপির অবস্থান শক্তিশালী।
কংগ্রেস আজমের, পালি ও বিকানেরে এগিয়ে রয়েছে। যোধপুরে দুই দলের লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। সেখানে বিজেপি ও কংগ্রেস উভয়েই ৪৪টি করে ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। ভারতপুরে নির্দল প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। পৌর পরিষদের ক্ষেত্রেও বিজেপি এগিয়ে। ২১টি পৌর পরিষদে বিজেপি, ১৬টিতে কংগ্রেস এবং আটটিতে অন্যরা এগিয়ে রয়েছে।
পৌরসভার হিসাবে বিজেপি ১১৬টিতে, কংগ্রেস ৮০টিতে এবং অন্যরা ৪০টিতে এগিয়ে রয়েছে। তবে রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপি সামগ্রিকভাবে ভালো ফল করলেও পরবতসরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফল আলাদা করে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে যে প্রার্থী নিজের ওয়ার্ডের ভোটার নন, তার ঝুলিতে মাত্র ১ ভোট আসার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রার্থী বাছাই ও দলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

-6aa8ef60e807f.jpg)