ইসলামি বিশ্বকে বার্তা দিতে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: এরদোগান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামি বিশ্ব বর্তমানে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি বলেছেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ইসলামি বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার উদ্যোগ। খবর তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সামসুন প্রদেশে তরুণদের সঙ্গে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরদোয়ান এ মন্তব্য করেন। গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এরদোগান বলেন, ‘সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একত্র হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ইসলামি বিশ্বকে একটি বার্তা দিতে চাই। ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে এবং আমরা সফল হব বলে বিশ্বাস করি।’
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বলে আসছেন, ‘বিশ্ব শুধু ওই পাঁচ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।’ একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গঠনের পক্ষে তুরস্কের অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোগান বলেন, হরমুজ প্রণালি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে কী ঘটছে আমরা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। শুধু সেখানে নয়, উপসাগরের আরও অনেক এলাকায় গুরুতর সংকট রয়েছে।’
তিনি বলেন, ইসলামি বিশ্বের সামনে থাকা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এসব সংকট মোকাবিলায় তুরস্ক অতীতের মতো বর্তমানেও অঞ্চলের দেশগুলোর পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এরদোগান আরও বলেন, তুরস্কের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই আঞ্চলিক সংকটগুলোকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, চারপাশে যুদ্ধ ও সংঘাত চললেও তুরস্ক নিজেকে এসব ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘আমাদের অঞ্চল যখন যুদ্ধ, সংঘাত ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখনও আমরা দেশকে এসব বিপদ থেকে দূরে রাখতে পেরেছি।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিরতা সত্ত্বেও তুরস্ক বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বক্তব্যে চলতি বছরের জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এরদোগান। তিনি জানান, তুরস্কের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান মেকানিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন (এমকেই) উৎপাদিত অস্ত্র বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের তুরস্কের নিজস্ব পণ্য উপহার দিতে চেয়েছিলাম।’ এসব উপহার পেয়ে সফররত নেতারা সন্তুষ্ট হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া তুরস্কের পর্যটন নগরী আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানান এরদোগান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
পাশাপাশি তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোগানের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘জিরো ওয়েস্ট’ উদ্যোগ জাতিসংঘ ব্যবস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

-6aa8f109351c0.jpg)