Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মমতার প্রস্তাবে সাড়া নেই, দুই আসনেই তৃণমূলের সমর্থন চায় কংগ্রেস

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

মমতার প্রস্তাবে সাড়া নেই, দুই আসনেই তৃণমূলের সমর্থন চায় কংগ্রেস

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেও সাড়া পেল না কালীঘাট তৃণমূল। বিজেপিকে ঠেকাতে দুই আসনে সমন্বিতভাবে লড়াইয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও পালটা শর্ত দিয়েছে কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ না করে দুই আসনেই কালীঘাট তৃণমূলের সমর্থন চেয়েছে তারা।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেস এবং কালীঘাট তৃণমূল আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে ফোন করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, ফোনে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে দুই দলকে একসঙ্গে লড়াই করার প্রস্তাব দেন। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানান। বিনিময়ে রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করুক বলে আবেদন করেন তিনি। তবে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি কংগ্রেস। বরং প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পালটা শর্ত দেওয়া হয়েছে। জোট করতে হলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই কালীঘাট তৃণমূলকে কংগ্রেসের প্রার্থীকে সমর্থন করতে হবে। এরপর ভবিষ্যতে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন, জোটের ব্যাপারে কালীঘাট তৃণমূলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুই আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থন করলে ভবিষ্যতে জোট নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পেছনে দলের পুরোনো ক্ষোভও কাজ করেছে। অতীতে জোট ভেঙে তৃণমূলের আলাদা পথে যাওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের আমলে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। দলের নিচুতলার কর্মীদের আপত্তিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। রেজিনগরে প্রার্থী করা হয়েছে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফিকে। মঙ্গলবার রেজিনগরে মনোনয়নপত্র জমা দেন কাফি। তার সঙ্গে ছিলেন শুভঙ্কর সরকার। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। একই সঙ্গে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে।

নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-কে নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তার নাম জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে প্রার্থী নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ চাপ এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট ভাগাভাগি ঠেকানোর চিন্তা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কংগ্রেসের পালটা শর্তে সেই উদ্যোগ আপাতত থমকে গেছে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম