Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন বিমান

৯০ জন সিআইএ এজেন্ট কীভাবে খুঁজে পেলেন ব্রাভোকে?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

৯০ জন সিআইএ এজেন্ট কীভাবে খুঁজে পেলেন ব্রাভোকে?

৫০ ঘণ্টা ইরানের মাটিতে ছিলেন ব্রাভো। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

ইরানের মাটিতে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান দুই মার্কিন পাইলট। তাদের একজন আলফাকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু আরেক পাইলট ব্রাভো আটকা পড়েন ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। প্রায় ৫০ ঘণ্টা খোঁজার পর তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়। 

ওই অভিযানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল উদ্ধার অভিযান। বিমান বিধ্বস্তের পর ব্রাভো আহত অবস্থায় প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি পাহাড়ি রিজলাইনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার কাছে খাবার ও পানি খুবই কম ছিল। ইরানি বাহিনীও তাকে খুঁজছিল।

মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, ইরানি সদস্যরা একপর্যায়ে ব্রাভোর কয়েকশ মিটারের মধ্যেও পৌঁছে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ব্রাভোকে খুঁজে বের করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

সিআইএ ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে একাধিক স্তরের গোপন কৌশল চালায়। একই সঙ্গে ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় অত্যন্ত গোপন প্রযুক্তি।

ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর তাকে উদ্ধারের পথ পরিষ্কার করতে মার্কিন বোমারু বিমান ও ড্রোন দিয়ে কাছাকাছি থাকা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর শুরু হয় মূল উদ্ধার অভিযান।

৯০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য সরাসরি ইরানের মাটিতে প্রবেশ করেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৬ বছর পর ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনাদের এটি ছিল প্রথম সরাসরি উপস্থিতি। আকাশে ছিল আরও কয়েকশ সদস্য এবং পুরো অভিযানে সহায়তা করছিলেন কয়েক হাজার সামরিক সদস্য।

উদ্ধারকারী দল দুটি বড় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বিমান নিয়ে একটি অস্থায়ী মরুভূমির রানওয়েতে অবতরণ করে। সেখান থেকে ছোট ‘লিটল বার্ড’ হেলিকপ্টার পাঠানো হয় কয়েক মাইল দূরের পাহাড়ি রিজলাইনে থাকা ব্রাভোর কাছে। শেষ পর্যন্ত ব্রাভোকে খুঁজে বের করা হয় এবং নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

তবে ফেরার পথও ছিল বিপজ্জনক। উদ্ধারকারী বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার মরুভূমির বালিতে আটকে যাওয়ায় বিমান দুটি আর উড্ডয়ন করতে পারেনি। ফলে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্যও সেখানে আটকা পড়েন।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ইরানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি উদ্ধারকারী বিমান ধ্বংস করে দিতে হয়। প্রতিটি বিমানের মূল্য ছিল প্রায় ১০ কোটি ডলার। ধ্বংস করা হয় উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত ‘লিটল বার্ড’ হেলিকপ্টারও।

যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর, ইস্টারের রোববার সূর্য ওঠার সময় শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ইরান থেকে বের করে আনা হয় ব্রাভোকে।

ব্রাভো বলেছেন, উদ্ধারকারীদের দেখতে পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল তার জীবনের ‘অন্যতম সেরা মুহূর্ত’। উদ্ধারকারীরা কাছে পৌঁছানোর পর তার প্রথম কথাই ছিল—‘লেটস গো।’

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে রাশিয়ার কড়া সতর্কবার্তা

ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে রাশিয়ার কড়া সতর্কবার্তা

কেন ইরানের কেশম দ্বীপে বারবার হামলা চালায় ‍যুক্তরাষ্ট্র?

কেন ইরানের কেশম দ্বীপে বারবার হামলা চালায় ‍যুক্তরাষ্ট্র?

ওমান উপকূলে জাহাজে হামলা, নিহত ভারতীয় নাগরিক

ওমান উপকূলে জাহাজে হামলা, নিহত ভারতীয় নাগরিক

সেই চিঠির জবাব দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, পাঠালেন উপহার

সেই চিঠির জবাব দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, পাঠালেন উপহার

ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও প্রার্থনাসভায় বাধার অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের ১৩ জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ও প্রার্থনাসভায় বাধার অভিযোগ

ইসরাইলকে বড় দুঃসংবাদ দিলেন ট্রাম্প

ইসরাইলকে বড় দুঃসংবাদ দিলেন ট্রাম্প

‘সব সমস্যা এড়িয়ে চললে মানুষ বাঁচবে কীভাবে’— আদালতকে প্রশ্ন

‘সব সমস্যা এড়িয়ে চললে মানুষ বাঁচবে কীভাবে’— আদালতকে প্রশ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম