Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ফুরিয়ে আসছে সৌদি আরবের তেলের মজুত

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

ফুরিয়ে আসছে সৌদি আরবের তেলের মজুত

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সৌদি আরবের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির ভয়ংকর চিত্র উপগ্রহ চিত্রে ফুটে উঠেছে। সৌদি আরব যদি দ্রুত এই পাইপলাইনটি আবার চালু করতে না পারে, তবে কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের তেল রপ্তানি করার মতো কোনো মজুত আর থাকবে না। 

এর ফলে বিশ্ববাজারে মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় চার শতাংশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত রোববার রাতের প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায়, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের একটি পাম্পিং স্টেশন আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ঘাটতি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। 

এমনিতেই জ্বালানির চড়া দামের কারণে বিশ্বব্যাপী জিনিসপত্রের দাম বা মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে নতুন করে হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল করে নিজেদের আধিপত্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা তেলের দাম সাড়ে তিন শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে হামলার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনটি ঠিক হতে ঠিক কতদিন লাগবে, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য জানায়নি। 

রয়টার্স ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি ঠিক করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রায় দেড় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

গত ছয় মাস ধরে পারস্য উপসাগরের মূল জলপথ বন্ধ থাকলেও সৌদি আরব এই মরুভূমি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বা বিশ্বের মোট চাহিদার চার শতাংশ লোহিত সাগরের বন্দরে সরিয়ে নিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় সেই বন্দরগুলোতে যে তেল জমে আছে, তা দিয়ে বড় জোর পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এরপর আর কোনো উপায় থাকবে না।

তেলের এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও হু হু করে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড ভেঙে প্রতি গ্যালন ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং এর ফলে সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে এক বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম