‘দিল তো পাগল হ্যায়’ থেকে ‘সাথি হাথ বাড়ানা’
ব্রিকস সম্মেলনের পর ভাইরাল মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিউডপ্রীতি
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতারা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন সম্প্রতি শেষ হলেও বিশ্ব রাজনীতি ছাপিয়ে এর রেশ রয়ে গেছে অন্য এক জায়গায়। ভূরাজনীতিকে ছাড়িয়ে এই সম্মেলনে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভারতীয় সংগীত।
ভারতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আসা বিশ্বনেতারা তাদের সফরের নানা স্মৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন। এর মাঝে বিশেষভাবে নেটিজেনদের নজর কেড়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা তার ছবি ও ভিডিওতে এই রাষ্ট্রপ্রধানের দারুণ ও চমৎকার সব বলিউড গান নির্বাচন নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে।
এই যেমন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক ভারত মণ্ডপমে তাকে স্বাগত জানানোর একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করার সময় মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী বেছে নেন শাহরুখ খান ও কাজলের বিখ্যাত সিনেমা ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’-এর জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’।
মোদির সঙ্গে অন্য একটি ছবির জন্য তিনি ব্যবহার করেন শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত ও কারিশমা কাপুর অভিনীত ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার টাইটেল গান ‘দিল তো পাগল হ্যায়’।
ব্রিকস সম্মেলনে নিজের বক্তব্য দেওয়ার ছবিগুলোর জন্য তিনি ২০০০ সালের ‘হর দিল জো পেয়ার করেগা’ ছবির ‘হর দিল জো পেয়ার করেগা’ গানটি বেছে নেন।
এ ছাড়া তার ভারত ছাড়ার শর্টস ভিডিওটিতে তিনি ব্যবহার করেছেন ‘লক্ষ্য’ সিনেমার ‘কাঁধোঁ সে মিলতে হ্যায় কাঁধে’ গানটি। এই গান দুটির মাধ্যমে আনোয়ার ইব্রাহিম যেন একসঙ্গে মিলে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন, যা ব্রিকস সম্মেলনের ছবির জন্য অত্যন্ত মানানসই ছিল।
ভারত সফরে এসে আনোয়ার ইব্রাহিম কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে ভোজসভার ছবি শেয়ার করার সময় তিনি ‘বীর-জারা’ ছবির ‘আইসা দেশ হ্যায় মেরা’ গানটি নির্বাচন করেন, যা ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তোলে।
তবে তার সবচেয়ে চমৎকার গান নির্বাচনের একটি ছিল ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পোস্টে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পোস্টে তিনি ১৯৫৭ সালের ‘নয়া দৌড়’ ছবির ‘সাথি হাথ বাড়ানা’ গানটি ব্যবহার করেন। একসঙ্গে হাত মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিতে গানটি ছিল একদম উপযুক্ত।
এ ছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের ছবিতেও তিনি ২০০১ সালের আমির খান অভিনীত ‘লগান’ ছবির ‘চলে চলো’ গানটি বেছে নেন, যা একসঙ্গে মিলে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।
শুধু মালয়েশীয় নেতাই নন, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুজিওনোও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সফরকে কেন্দ্র করে বলিউডের ‘দিল ধাড়কনে দো’ সিনেমার গান ব্যবহার করে কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন।
এতসব কিছুর মাঝেই ব্যাপক মেরুকরণে বিভক্ত বিশ্বে অনুষ্ঠিত এই দিল্লি ব্রিকস সম্মেলনকে সফল বলে উল্লেখ করেছে ভারত।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, বর্তমান বিশ্বে নানা দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা সফলভাবে একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছেন এবং পশ্চিম এশিয়া সংকটসহ কঠিন ইস্যুগুলোতে সবাই একটি যৌথ বিবৃতিতে সম্মত হয়েছে।
এই সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্র, অংশীদার দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মিলিয়ে মোট ৩২টি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছিল।

