Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিল, ‘দুশ্চিন্তায়’ ভারত

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিল, ‘দুশ্চিন্তায়’ ভারত

Advertisement

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে ভারত।  একই সঙ্গে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেলের উৎস বহুমুখী করার নীতিও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। এর আগে সিনেটেও বিলটি অনুমোদন হয়েছিল। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনতে থাকা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে থাকবে। ভারত ও চীনসহ রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতারা এর আওতায় পড়তে পারেন। তবে ভারতের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনই কার্যকর হয়নি, এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে।

ভারতের প্রতিক্রিয়া

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার  বিষয়টি লক্ষ্য করেছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে এই নীতি অব্যাহত রাখা হবে।

ভারত আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির তেল বাণিজ্যের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও ওয়াশিংটনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

নয়াদিল্লি বলছে, নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

রুশ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা

ভারত বর্তমানে সমুদ্রপথে পরিবাহিত রুশ অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। ফলে নতুন মার্কিন আইনের সম্ভাব্য শুল্ক ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ভারত ইতোমধ্যে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা চেষ্টা করছে। দেশটির শোধনাগারগুলো রাশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা, ভেনেজুয়েলা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে তেল সংগ্রহ বাড়াচ্ছে।

কী আছে মার্কিন বিলে?

বিলটিতে রাশিয়ার কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করেছে-এমন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহণে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’র জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

এছাড়া রুশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান এবং রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও এতে রাখা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম