Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

সৌদিকে এফ-৩৫ দিতে রাজি ট্রাম্প, কেন এত শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমান?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

সৌদিকে এফ-৩৫ দিতে রাজি ট্রাম্প, কেন এত শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমান?

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তি সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

সৌদি আরব বহু বছর ধরেই এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু আগের কয়েকটি মার্কিন প্রশাসন সেই অনুমতি দেয়নি। এর অন্যতম কারণ ছিল ইসরাইলের আপত্তি।  তবে গত বছরের নভেম্বরে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনা আসে। 

কিন্তু সৌদি আরব কেন এফ-৩৫ কিনতে এত আগ্রহী? আর যুক্তরাষ্ট্রই বা কেন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে সৌদিকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার অনুমতি দিল—তা জেনে নেওয়া যাক।

এফ-৩৫ আসলে কী?

এফ-৩৫ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘লকহিড মার্টিন’র তৈরি অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এর পূর্ণ নাম এফ-৩৫ লাইটনিং টু। 

‘লকহিড মার্টিন’ নিজেদের ওয়েবসাইটে এটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমান’ হিসেবে বর্ণনা করে।

এফ-৩৫ মূলত একটি স্টেলথ যুদ্ধবিমান। অর্থাৎ রাডার ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যাতে শত্রুপক্ষ সহজে বিমানটিকে শনাক্ত করতে না পারে, সেভাবেই এটি তৈরি করা হয়েছে।


 শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান আক্রমণের আগেই শনাক্ত করে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে এর। সফলভাবে এসব কাজ করতে পারলে কোনো সংঘাতে আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এফ-৩৫ তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েকটি দেশও অংশীদার। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য। এসব দেশ বিমানটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করে অথবা নিজেদের ব্যবহারের জন্য এফ-৩৫ সংযোজনের কারখানা পরিচালনা করে।

এফ-৩৫-এর কত ধরনের মডেল রয়েছে?

এফ-৩৫-এর প্রধানত তিনটি সংস্করণ রয়েছে—এফ-৩৫এ, এফ-৩৫বি এফ-৩৫সি। 

এফ-৩৫এ:  এটি এফ-৩৫-এর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সংস্করণ এবং সবচেয়ে বেশি দেশ এই মডেল ব্যবহার করে।

এফ-৩৫এ সাধারণ রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। এর অস্ত্র ও জ্বালানি বিমানের ভেতরেই রাখা হয়, যাতে এর স্টেলথ সক্ষমতা বজায় থাকে।

এফ-৩৫ আই (আদির) : এটি ইসরাইলের জন্য বিশেষভাবে পরিবর্তিত এফ-৩৫এ। এতে ইসরাইলের তৈরি কিছু প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্টেলথ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জ্যামিং ও ডিকয় ব্যবস্থা।

বিমানটিতে অতিরিক্ত জ্বালানি বহনের জন্য বাইরের ফুয়েল ট্যাংকও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময়ের মিশনে মাঝপথে জ্বালানি নিতে না হয়।


যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে বিমানটির মূল অপারেটিং সিস্টেমে পরিবর্তন আনার অনুমতিও দিয়েছে। এর ফলে ইসরাইল নিজেদের তৈরি অস্ত্র এতে যুক্ত করতে পারে।

এফ-৩৫বি: ইতালি, জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫বি ব্যবহার করে। 

এই সংস্করণটি হেলিকপ্টারের মতো প্রায় উল্লম্বভাবে অবতরণ করতে পারে এবং খুব অল্প দূরত্বের রানওয়ে ব্যবহার করেও দ্রুত উড্ডয়ন করতে পারে। ফলে ছোট রানওয়ে বা সীমিত জায়গা থেকে অভিযান পরিচালনার জন্য এটি উপযোগী।

এফ-৩৫বি আকারে এফ-৩৫এ-এর চেয়ে কিছুটা ছোট হলেও ওজনে বেশি। ফলে এতে জ্বালানি ও অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এফ-৩৫এ-এর তুলনায় কম।

এফ-৩৫সি: এফ-৩৫সি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ব্যবহৃত একটি সুপারসনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান।

এটি মূলত দীর্ঘপাল্লার স্টেলথ অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি এবং বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

কেন এফ-৩৫ এত বিশেষ?

এফ-৩৫-এর লকহিড মার্টিন এটিকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে প্রাণঘাতী, টিকে থাকার সক্ষমতাসম্পন্ন এবং সংযুক্ত যুদ্ধবিমান’ হিসেবে বর্ণনা করে।

বিমানটির শক্তির বড় অংশ এসেছে কয়েকটি প্রযুক্তির সমন্বয় থেকে। এর মধ্যে রয়েছে—

 - স্টেলথ প্রযুক্তি

- অত্যাধুনিক সেন্সর

- উচ্চগতির কম্পিউটিং ব্যবস্থা

 এই প্রযুক্তিগুলো একসঙ্গে কাজ করে বিমানটিকে আগের প্রজন্মের যুদ্ধবিমান থেকে আলাদা করে।

এফ-৩৫ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং একই সঙ্গে আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

বিমানটির ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য সরাসরি পাইলটের কাছে পৌঁছে যায়।


অর্থাৎ এফ-৩৫ শুধু দ্রুতগতিতে উড়ে শত্রুর ওপর হামলা চালানোর বিমান নয়। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে আগে শত্রুকে শনাক্ত করা, সেই তথ্য নিজের বাহিনীর অন্য সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করা এবং অন্যান্য অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালানোর একটি প্ল্যাটফর্ম।

ফলে যেসব দেশ এফ-৩৫ কিনছে, তাদের জন্য এটি আকাশযুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এখানে শুধু গতি নয়, বরং কে আগে শত্রুকে শনাক্ত করতে পারছে এবং সেই তথ্য কত দ্রুত কাজে লাগাতে পারছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কোন কোন দেশের কাছে এফ-৩৫ রয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এফ-৩৫ ব্যবহার করছে বা কর্মসূচির অংশীদার। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, কানাডা ও ইসরাইলসহ আরও কয়েকটি দেশ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম