আল-জাজিরার বিশ্লেষণ
ইরানে যুদ্ধাপরাধ করে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘের এই দাবির অর্থ কী
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানে চালানো সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষ হত্যা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে, তখন মার্কিন বাহিনী চরম ‘বেপরোয়া আচরণ’ ও অবহেলা প্রদর্শন করেছিল।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১২০ জন শিশু এবং ২৬ জন নারী শিক্ষককে হত্যা করা হয়। বিদ্যালয়টির পাশে একটি নৌঘাঁটি থাকলেও, সেটি যে স্পষ্টতই শিশুদের স্কুল তা বেশ ভালোভাবেই বোঝা যেত। এমনকি স্কুলের দেয়ালে আঁকা ছবি ও খেলার মাঠও পরিষ্কার দেখা যেত। হামলার ধরণটি ছিল আরও নির্মম—প্রথমবার মিসাইল এসে নিচতলায় পড়ার পর যখন আতঙ্কিত শিশুদের নিয়ে শিক্ষকেরা দোতলার প্রার্থনা কক্ষে আশ্রয় নেন, তখনই দ্বিতীয় মিসাইলটি সেখানে আঘাত হানে।
পেন্টাগন পরে স্বীকার করে যে, পুরনো বা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা এই হামলাটি চালিয়েছিল। একই দিনে একটি ক্রীড়া কেন্দ্রেও মার্কিন মিসাইল হামলায় বেশ কয়েকজন শিশুসহ বহু মানুষ প্রাণ হারায়।
জাতিসংঘের এই রিপোর্ট সামনে আসার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি আনা কেলি উল্টো জাতিসংঘকেই সমালোচনা করে বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বছরের পর বছর ধরে অকার্যকর কিছু কথা ছড়িয়ে আসছে।
তিনি বলেন, মূল যুদ্ধাপরাধী হলো ইরান সরকার নিজেই এবং বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই তাদের পারমাণবিক সুবিধা বন্ধ করা জরুরি। অন্যদিকে, ইরান জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে এই ধরনের ‘নির্বিচার’ হামলার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো জেনে-বুঝে স্কুলে হামলা করতে চায়নি, কিন্তু চরম অবহেলা এবং আগে থেকে খোঁজখবর না নিয়ে হামলা চালানোটাও আন্তর্জাতিক আইনের চোখে এক ধরণের বড় অপরাধ। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য নয় বলে সরাসরি হয়তো কোনো শাস্তি তাদের হবে না। কিন্তু আমেরিকান রাজনীতি ও সরকারের ওপর এটি যে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

