কামাল আতাতুর্কের পর যেভাবে তুরস্কের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত হন এরদোগান
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান আজ তুরস্কের রাজনীতির অন্যতম পরাক্রমশালী নেতা। টানা ২২ বছর ধরে দেশ শাসন করে তিনি আধুনিক তুরস্কের জনক মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের পর দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসকে পরিণত হয়েছেন।
একের পর এক রাজনৈতিক সংকট পার করে ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও জয়ী হয়ে নিজের ক্ষমতা ধরে রেখেছেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে একচ্ছত্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করা ও প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয় মেয়র একরেম ইমামোলুকে বিরোধী দল আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করা মাত্রই তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এর প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছেন লাখ লাখ মানুষ। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বও এরদোগানের এই পদক্ষেপে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই এরদোগান নিজেকে সব ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে গেছেন। প্রথমে ২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তুরস্ককে এক শক্তিশালী আঞ্চলিক পরাশক্তিতে রূপ দেন। একদিকে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোট নেটোর সদস্য হয়েও তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে মধ্যস্থতা করছেন, অন্যদিকে ইউরোপীয় রাজনীতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন।
১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া এরদোয়ান ছেলেবেলায় লেবুর শরবত ও রুটি বিক্রি করে বাড়তি আয় করতেন। ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছুদিন পেশাদার ফুটবলও খেলেছেন। নব্য-ইসলামপন্থী রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম ইস্তাম্বুলের মেয়র হন। তবে একটি কবিদের ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তির কারণে বর্ণবাদী উস্কানির অভিযোগে তাকে কিছুদিন জেল খাটতে হয় এবং মেয়র পদ হারাতে হয়।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে তিনি নতুন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) গঠন করেন এবং ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হন। তার প্রথম দশকে দেশে বিপুল অর্থনৈতিক সাফল্য আসে, যা লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করে। তবে ২০১৩ সালের গাজি পার্ক আন্দোলন এবং পরবর্তীতে অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে তিনি আরও কড়া হাত শাসন চালাতে শুরু করেন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার কড়াকড়ি শিথিল করে হিজাব পরা সহজ করা এবং বিখ্যাত আয়া সোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মুসলিমদের মন জয় করেন।
২০১৭ সালের বিতর্কিত গণভোটে দেশের সংবিধান বদলে প্রেসিডেন্ট পদকে সীমাহীন ক্ষমতা দেন তিনি। বর্তমানে নির্বাচনে জিতে টিকে থাকলেও ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার মতো বড় শহরগুলোতে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে তিনি নিজের রাজত্ব অব্যাহত রাখছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি।

-6aad249da7d40.jpg)