Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ভোটচুরি, সরকারচুরির পর এবার দলচুরি: মমতার পাশে দাঁড়িয়ে কমিশনকে নিশানা রাহুলের

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

ভোটচুরি, সরকারচুরির পর এবার দলচুরি: মমতার পাশে দাঁড়িয়ে কমিশনকে নিশানা রাহুলের

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নাম ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসসহ কয়েকটি বিরোধী দল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে কাজ করে বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের ভাঙনের উদাহরণ টেনে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন।

রাহুলের বক্তব্য, প্রথমে শিবসেনা, পরে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, একটি দলকে বিভক্ত করার পর তার নির্বাচনী প্রতীকও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি এই ঘটনাকে ভোটচুরি, সরকারচুরির পর দলচুরি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

তবে এগুলো রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নয়। রাহুল আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব জনগণের রায়কে সুরক্ষা দেওয়া। তার অভিযোগ, কমিশন সেই দায়িত্ব পালনের বদলে এমন শক্তিকে সহযোগিতা করছে, যারা জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে। 

একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই নয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান এমন প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও ভোটারের বিষয়। বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর কেউই আপাতত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও পৃথক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

কমিশন জানিয়েছে, দুই গোষ্ঠী নিজেদের জন্য পৃথক নাম বেছে নিতে পারবে। প্রয়োজনে সেই নামের সঙ্গে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পর্কের উল্লেখও করা যেতে পারে। পাশাপাশি কমিশনের নির্ধারিত অবাধ প্রতীকের তালিকা থেকে প্রত্যেক পক্ষকে আলাদা প্রতীক নিতে হবে। 

শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলটির নিয়ন্ত্রণ, নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিশনের নথিপত্র অনুযায়ী, দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করছে। সেই বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দুই পক্ষকে সমান অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এই সিদ্ধান্তের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনের উপহার বলে কটাক্ষ করেছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মমতার পাশে দাঁড়িয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রায় ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের একটি বিধানসভা উপনির্বাচনে দলটির পরিচিত নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবির কোন নামে ও কোন প্রতীকে ভোটে নামে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম