Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

দলের নাম ও প্রতীক হারানোর পর মুখ খুললেন মমতা

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

দলের নাম ও প্রতীক হারানোর পর মুখ খুললেন মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক নির্ধারণের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, কমিশনের এই পদক্ষেপ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায় এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত কোনও গোষ্ঠীই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের সংরক্ষিত জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। 

শুক্রবার কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর জন্য ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক বরাদ্দ করেছে। বিরোধী গোষ্ঠীর জন্য দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক। এই ব্যবস্থা আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, উপনির্বাচনের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার দাবি, এইভাবে একটি ২৮ বছরের পুরনো দলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া যায় না।

মমতার কথায়, ‘আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ হলেও আমরা মাথানত করব না।’ তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনের যাবতীয় নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তারপরও এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী।মমতার আরও অভিযোগ, ‘মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে।’ তার দাবি, দেশে বহু নামহীন রাজনৈতিক দল রয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, তৃণমূলের ক্ষেত্রে কেন তা নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই কমিশন এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে। ফলে দলীয় নাম ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী প্রতীক বিধির অধীনে বিস্তারিত প্রক্রিয়া শেষে।

এদিকে মমতা বিরোধী শিবিরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তার অভিযোগ, যারা তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই করছে, তারা দলের স্বার্থের কথা ভাবছে না। 

তার দাবি, প্রকৃত তৃণমূল কে এবং কারা অন্য পরিচয়ে দলকে দখল করতে চাইছে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে যাবে।তবে কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত তৃণমূলের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা শিবিরকে পুরনো নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই ভোটের মাঠে নামতে হবে। মমতা জানিয়েছেন, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়। উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পর দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথাও তিনি জানিয়েছেন। রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম