Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি চীনের

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি চীনের

Advertisement

জাতীয় প্রযুক্তি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন—এমন নাগরিকদের বিদেশে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে চীন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির নতুন প্রবেশ ও বহির্গমন বিধি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির বিদেশযাত্রা আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে পড়তে পারে।

নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা’ বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এতে সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণ সীমিত করা হচ্ছে না। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্যে যাওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকদের বিদেশে নেওয়া এবং বিদেশে অবৈধ জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতেও এই বিধিমালা ভূমিকা রাখবে।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন নিয়ম বিদেশে চীনা নাগরিকদের কর্মকাণ্ডের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়াবে।

চীনের সাধারণ নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত ব্যক্তিদের ভ্রমণ পরিকল্পনার ওপর দীর্ঘদিন ধরেই কড়া নজর রাখে বেইজিং।

জুলাইয়ে নতুন নিয়মগুলোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন চীন জানিয়েছিল, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি বিধি লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এসব ঝুঁকি ঠেকাতেই নতুন বিধি আনা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানকালে জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের ক্ষতি করে বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে চীনে ফিরে আসা নাগরিকদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

এ ছাড়া বিদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত চীনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

চীনে অবশ্য ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আগে থেকেই রয়েছে। বিশেষ করে গোপনীয় তথ্যের অ্যাকসেস থাকা জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বিদেশযাত্রা দীর্ঘদিন ধরেই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

চীনের সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিদেশি প্রভাব ঠেকাতে বেইজিংয়ের নেওয়া বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিভিন্ন বিদেশি সরকারও জানিয়েছে, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তদন্তের কারণে তাদের কিছু নাগরিককে চীন ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত মিয়ানমার-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন নাগরিক মিন জিনকে চীনা কর্তৃপক্ষ আটক করে। জুনে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তার আটকের ঘটনাকে অন্যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাইওয়ান। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে এবং তাইওয়ানের বাসিন্দাদের চীনা নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে।

তাইওয়ান তাদের নাগরিকদের চীন সফরের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম