Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

গবেষণা

পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর উত্তর কোরিয়ায় ১৩৯৯ ভূমিকম্প

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম

পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর উত্তর কোরিয়ায় ১৩৯৯ ভূমিকম্প

২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই এলাকায় ১ হাজার ৩৯৯টি ভূমিকম্প শনাক্ত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে দেশটির পারমাণবিক পরীক্ষার পর ভূমিকম্পের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৭ সালে সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পরও কয়েক বছর ধরে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।  সময়ের সঙ্গে এসব ভূমিকম্পের সংখ্যা ও মাত্রা দুটিই বাড়ছে।

নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভির

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ছয়টি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর স্থান মাউন্ট মানতাপ ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ হাজার বছর ধরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পের ঘটনা ছিল না। তবে বিজ্ঞানীরা ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওই এলাকার ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ১ হাজার ৩৯৯টি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছেন।

পারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণে সৃষ্ট ভূমিকম্প সাধারণত পরীক্ষার কয়েক বছর পরও এভাবে বাড়তে থাকে না। সে কারণে গবেষণার ফলাফলকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

ওই এলাকায় প্রথম ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয় ২০১৩ সালে, উত্তর কোরিয়ার তৃতীয় পারমাণবিক পরীক্ষার পর। তবে পরবর্তী কয়েক বছরে ভূমিকম্পের সংখ্যা ছিল খুবই কম।


পরিস্থিতি বদলে যায় ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার ষষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর। গবেষণার লেখকেরা জানান, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভূমিকম্পের প্রবণতা খুবই কম ছিল। কিন্তু ওই বছরের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর ভূমিকম্পের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

২০১৭ সালের পারমাণবিক পরীক্ষার সময় ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ওই বিস্ফোরণের ফলে একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার পাশাপাশি পাহাড়ের চূড়ার আকৃতিও প্রায় ৩ মিটার পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।

তবে পরবর্তী সময়ে যে ভূমিকম্পগুলো রেকর্ড হয়েছে, সেগুলোর মাত্রা খুব বেশি ছিল না। পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কিম জানান, বেশির ভাগ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ২ থেকে ৩-এর মধ্যে। এগুলো অগভীর গভীরতায় ঘটেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা শুরুর আগে ওই এলাকায় ভূমিকম্পের প্রবণতা খুবই কম ছিল। গবেষক কিম বলেন, চীন ও কোরিয়ায় ২ হাজার বছরের বেশি সময়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে। ওই এলাকায় ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র একটি ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া গেছে।


গবেষকদের ধারণা, ভূমিকম্পের এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিতে পারে যে ২০১৭ সালের পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর মাউন্ট মানতাপের নিচের ভূস্তর আগের অবস্থায় ফিরে যায়নি।

কিমের মতে, ওই পরীক্ষার পর অন্তত দুটি পুরোনো ভূগর্ভস্থ চ্যুতি সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে। বিস্ফোরণের ফলে পাহাড়ের ভেতরে থাকা পুরোনো সুপ্ত ফাটলগুলো আবার সক্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরণের কারণে তৈরি নতুন ফাটলগুলোতে পানি জমেছে। এতে ভূগর্ভে পানির চাপ বেড়ে পাথরের স্তরগুলো একে অপরের ওপর সরে যাচ্ছে এবং এর ফলেই একের পর এক ছোট ভূমিকম্প ঘটছে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম