নেপালে ভয়াবহ বন্যা
চার সপ্তাহ পরও নিখোঁজ ৬ হাজার মানুষ, মৃত্যু ছাড়াল ১৪৫০
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত মাসের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নেপালে এখনো খোঁজ মেলেনি প্রায় ৬ হাজার মানুষের। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়ে গেছে। খবর এনডিটিভির।
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকার কাছে গত ২৬ আগস্ট এই বিধ্বংসী বন্যা শুরু হয়। ভোতেকোশি নদীর তীব্র স্রোত মুহূর্তের মধ্যে উত্তর ও মধ্য নেপালের ঘরবাড়ি, গাড়ি, রাস্তাঘাট এবং সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এর ফলে দেশটির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নেপাল পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযানে আরও মরদেহ পাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫১ হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে চিতওয়ান জেলায় (৩৬৭ জন)। এ ছাড়া রাসুয়ায় ২৩৬ জন, পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ২৩২ জন এবং পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ২২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে নুওয়াকোট, গোর্খা, ধাদিং ও তানাহু জেলা থেকেও বহু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এখনো চলছে উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি
দুর্যোগের এক মাস পরও প্রায় ৬ হাজার নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। নদীর তীরবর্তী এলাকা, পলিমাটি জমে থাকা স্থান এবং ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। রাসুয়ার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে মাটি ও রডের জালের নিচ থেকে ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করতে গ্যাস কাটার ও গ্রাইন্ডারের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়েছে।
তবে উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মরদেহ শনাক্তকরণ। পানিতে ভেসে থাকা অনেক মরদেহ পচে গলে যাওয়ায় বা খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় চেনার উপায় নেই। এ পর্যন্ত ডিএনএ নমুনা রেখে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১০টি মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
চরম দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দারা
বন্যার কারণে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভাঙা সেতু ও রাস্তাঘাট মেরামতের কাজ শুরু করলেও নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় বাজারঘাট, স্কুল এবং চিকিৎসাসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

