এনডিটিভির বিশ্লেষণ
জার্মানি-ইতালির উগ্র ডানপন্থি দলগুলোর মেলবন্ধন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে কী?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জার্মানি ও ইতালির দুটি উগ্র ডানপন্থি দল হাত মিলিয়ে ইউরোপে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চাইছে। সম্প্রতি ইতালির ওরভিয়েতো শহরে এক রাজনৈতিক সমাবেশে দল দুটির শীর্ষ নেতারা ইউরোপের জাতীয়তাবাদী দলগুলোকে আরও কাছাকাছি আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রায় ৯০ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি ও ফ্যাসিস্ট ইতালি যেভাবে জোট বেঁধেছিল, বর্তমানের এই রাজনৈতিক মেলামেশা সেই ইতিহাসকেই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির কট্টর ডানপন্থি দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি-র জ্যেষ্ঠ নেতা মার্ক ইয়োংগেন এবং ইতালির ডানপন্থি নেতা রবার্তো ভান্নাচ্চি। সম্প্রতি জার্মানির একটি রাজ্যে এএফডি দলের ঐতিহাসিক জয়ের পরই এই বৈঠকটি হলো, যা ইউরোপের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
১৯৩৬ সালে ইতালির তৎকালীন শাসক বেনিতো মুসোলিনি জার্মানির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা ইতিহাসে ‘রোম-বার্লিন অক্ষ’ নামে পরিচিত। এর তিন বছর পর দুই দেশ মিলে সামরিক ও রাজনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করে।
বর্তমানের দলগুলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতর থেকে রাজনীতি করলেও, তাদের এই নতুন মিত্রতা ১৯৩০-এর দশকের সেই পুরনো ইতিহাসকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
সমাবেশের মূল কথা
ওরভিয়েতোর সমাবেশে ভান্নাচ্চি তার জার্মান মিত্র মার্ক ইয়োংগেনের প্রশংসা করে বলেন, তাকে নিয়ে মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই, কারণ তিনি কোনো উগ্রপন্থী নন বরং একজন শ্রদ্ধেয় দর্শন অধ্যাপক।
অন্যদিকে, ইয়োংগেন বলেন যে জার্মানি ও ইতালির ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে নিজেদের আলাদা সত্তা ও পরিচয় বজায় রেখে পাশাপাশি চলা উচিত। তারা একে অপরকে ‘সহোদর দল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান
এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল অভিবাসন। দুই নেতাই বর্তমানের উদার অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
জার্মান নেতা ইয়োংগেন ২০১৫ সালের শরণার্থী নীতির সমালোচনা করে একে ‘বড় ধরনের চাপ’ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, অভিবাসন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই ইতালির রাজনীতিরও একটি বড় বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানিতে বর্তমান চ্যান্সেলরের দল যখন একের পর এক নির্বাচনে হোঁচট খাচ্ছে এবং উগ্র ডানপন্থি এএফডি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময়ে এই দুই দেশের উগ্রপন্থী দলগুলোর হাত মেলানো ইউরোপের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে।

