Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

শি জিনপিংকে রাজকীয় অভ্যর্থনা দিয়ে চীনের কাছ থেকে কী পেতে চাচ্ছেন ট্রাম্প?

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

শি জিনপিংকে রাজকীয় অভ্যর্থনা দিয়ে চীনের কাছ থেকে কী পেতে চাচ্ছেন ট্রাম্প?

বিমানবন্দরে নিজে উপস্থিত থেকে শি জিনপিংকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Advertisement

দশ বছরেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওয়াশিংটনের কাছে বিমান ঘাঁটিতে তার বিমান অবতরণের পর বিমানবন্দরে নিজে উপস্থিত থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

সাধারণত হোয়াইট হাউসে অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানানো হলেও, ট্রাম্পের এই রাজকীয় অভ্যর্থনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই সফরে দুই নেতার একান্ত বৈঠক ছাড়াও হোয়াইট হাউসে সামরিক সংবর্ধনা, সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের নিয়ে একটি রাজকীয় ভোজসভা (স্টেট ডিনার) এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের কথা রয়েছে। 

ট্রাম্পের প্রত্যাশা কী?

গত মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সে সময় ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানাতে শি জিনপিং বিমানবন্দরে তো যানইনি, এমনকি কোনো চুক্তি বা যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই সেবার চীন ছাড়তে হয়েছিল ট্রাম্পকে। 

বর্তমান পরিস্থিতিও ট্রাম্পের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে দেশের ভেতরে জনগণের অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। সামনেই মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। এমন সময়ে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে কিছু ইতিবাচক কূটনৈতিক চিত্র দেখাতে চান ট্রাম্প। 

অন্যদিকে, কিছু অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ থাকলেও বেশ শক্ত অবস্থানে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন শি জিনপিং। 

ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক ‘স্টিমসন সেন্টার’-এর বিশেষজ্ঞ সান ইউন জানান, গত এক দশকে চীন শুধু অর্থনৈতিকভাবেই শক্তিশালী হয়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো সক্ষমতা ও ইচ্ছাও তারা অর্জন করেছে।

এর প্রমাণ মিলেছে গত বছর, যখন যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক চাপালে চীনও পালটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমান তৈরির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যের মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়। 

বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে?

রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকে তাইওয়ানের ওপর নিজেদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেন শি জিনপিং, যা ওয়াশিংটন সাধারণত এড়িয়ে চলতে চায়। 

অন্যদিকে, চীনের আপত্তি সত্ত্বেও মার্কিন প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন ট্রাম্প।

স্বস্তির খবর হলো, আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে রাজি হয়েছে চীন। এবারের বৈঠকে নির্দিষ্ট খাতের শুল্ক কমানো, মাদক পাচার রোধ এবং সামরিক আলোচনা বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি হতে পারে। পাশাপাশি, চীন ও অন্যান্য দেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টি তুলতে পারেন ট্রাম্প। 

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চললেও এই বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রাখতে পারে উভয় পক্ষ। 

সব মিলিয়ে, গভীর মতপার্থক্য সত্ত্বেও বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি একে অপরের মুখোমুখি হয়ে স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ারই চেষ্টা করছে। 

সূত্র: এনডিটিভি 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম