মার্কিন রাজনীতি ও সিলিকন ভ্যালি
পৃথিবীর শেষ সময় নিয়ে প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের ভয়ংকর দর্শন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি জগতের সংযোগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং শীর্ষ প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার পিটার থিলের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিন্তাভাবনা এখন এমন এক জায়গায় এসে ঠেকেছে, যা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, নিজের রাজনৈতিক বা আদর্শিক কাজ করতে গিয়ে যদি পৃথিবীর শেষ বা ‘অ্যাপোক্যালিপ্স’ নেমে আসে, তাতেও তার কোনো আপত্তি নেই।
কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি বলেন, তিনি কেবল স্রষ্টার কাজ করে যেতে চান, পরিণতির কথা তিনি ভাবেন না।
উল্লেখ্য, ভ্যান্সের এই রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার পিটার থিলের বিশাল হাত। নিজেকে গোঁড়া খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেওয়া থিল দীর্ঘদিন ধরে বাইবেলে বর্ণিত ‘অ্যান্টিক্রিস্ট’ বা পৃথিবীর শেষ সময়ের ভিলেনকে খুঁজে বেড়ান।
২০১১ সালে একটি অনুষ্ঠানে থিলের সঙ্গে ভ্যান্সের পরিচয় হয়। এরপর থিলের অর্থায়ন ও প্রভাবেই ভ্যান্স রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। থিলের এই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য আবার বিখ্যাত উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে গড়ে তোলা ‘পেপাল’ থেকেই মূলত প্রসার লাভ করেছিল।
গণতন্ত্রের পতন ও সমাজ ভাঙার রাজনীতি
পিটার থিল এবং তার- সমমনা ধনী ব্যক্তিরা একটি বিশেষ মতবাদে বিশ্বাস করেন, যাকে বলা হয় ‘এক্সিলারেশনিজম’। এই ধারণার মূল কথা হলো—বর্তমান যুগের প্রযুক্তির সামনে গণতন্ত্র এখন সেকেলে বা অকার্যকর। তাই সমাজব্যবস্থার পতনকে আটকানোর কোনো দরকার নেই, বরং অভিজাত শ্রেণির স্বার্থে এই ভাঙন বা পতনকে আরও দ্রুত ত্বরান্বিত করা উচিত।
থিলের স্পষ্ট কথা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র একে অপরের পরিপূরক নয়। আর তাই বিশ্বজুড়ে ঘটতে থাকা জলবায়ু সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে এসব ধনী ব্যক্তিরা এখন আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার তৈরি করছেন এবং বিভিন্ন দেশের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে সাহায্য করছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: প্রযুক্তি নাকি ধ্বংসের দেবতা?
সিলিকন ভ্যালিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে এক ধরনের অতিভক্তি ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান কিংবা ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা বারবার সতর্ক করেছেন যে, এআই মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়ের প্রচার কেবল মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করার জন্যই নয়, বরং নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং সরকারের কড়া আইন বা নিয়ন্ত্রণ এড়াতে এটি একটি বড় কৌশল মাত্র।
এই প্রযুক্তিগুলো দিয়ে একসময় সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও সহজ করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ডিজিটাল অধিকারকর্মী ডোনাল্ড ক্যাম্পবেলের বক্তব্য, ‘প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের মানবকল্যাণের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই; তারা কেবল যেকোনো মূল্যে নিজেদের ক্ষমতা এবং নিয়মকানুনহীন স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়।’
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

