Logo
Logo
×
   

Advertisement

আন্তর্জাতিক

মানসিক চাপে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে রুটির দোকান দিলেন নারী

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম

মানসিক চাপে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে রুটির দোকান দিলেন নারী

Advertisement

জীবনের দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় চিকিৎসাসেবায় কাটিয়ে দেওয়ার পর তিন বছর আগে অভিনব এক সিদ্ধান্ত নেন চীনের এক নারী। মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ডাক্তারি পেশা ছেড়ে বাষ্পে রান্না করা পুরভরা রুটি বিক্রির দোকান দেন। 

তার এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতে অনেকের মনে সংশয় থাকলেও প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে তার এই দোকান শুধু টিকেই থাকেনি, বরং দারুণ ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে তিনি তার দোকানের দ্বিতীয় শাখা চালু করেছেন।

‘চ্যাংজিয়াং ডেইলি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪৮ বছর বয়সি ডং মিন বলেন, ‘ডাক্তারি পেশায় থাকাকালীন প্রায়ই চাকরি ছাড়ার কথা মাথায় আসত। আর এখন এই রুটির দোকান চালাতে গিয়ে শরীর ক্লান্ত হলেও আমি এতটাই আনন্দিত যে থামতেই ইচ্ছে করে না।’ 

কেন ছেড়েছিলেন ডাক্তারি?

১৯৯৯ সালে উহান ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন থেকে পাশ করে শেনজেনে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করেন ডং মিন। পরবর্তীতে তিনি নিজের জন্মশহর হুবেই প্রদেশের তিয়ানমেনে ফিরে একটি স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রধানের দায়িত্ব নেন।

ডং মিন জানান, চিকিৎসক হিসেবে তাকে প্রচণ্ড মানসিক চাপ সামলাতে হতো। রোগী দেখার পাশাপাশি নানা প্রশাসনিক ঝামেলা এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পরিদর্শন সামলাতে গিয়ে তার শক্তির বড় অংশ খরচ হয়ে যেত। 

এ ছাড়া চীনে ডাক্তার-রোগীর সম্পর্ক সবসময় বেশ টানটান থাকে এবং কোনো ঝামেলা হলে হাসপাতালের প্রধান হিসেবে পুরো দায় তাকেই নিতে হতো। এর বিপরীতে, বর্তমানে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেও তার মনে কোনো মানসিক চাপ নেই।

যেভাবে রুটির দোকান শুরু হলো

২০২৩ সালে এক বন্ধুর একই রকম দোকান দেখে এই ব্যবসার প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। প্রথমে তিনি শুধু অর্থ বিনিয়োগ করলেও, হুট করে দোকানের মূল রাঁধুনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় তিনি নিজেই পুরভরা রুটি বানানো শেখার সিদ্ধান্ত নেন। দ্রুতই তিনি কাজটিতে পটু হয়ে ওঠেন এবং এর মধ্যে আনন্দ খুঁজে পান। 

চীনে চিকিৎসক পেশাকে অত্যন্ত সম্মানজনক মনে করা হলেও পরিবারের বাধা উপেক্ষা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। 

ডং মিন বলেন, ‘আমার বয়স এখন প্রায় ৫০ বছর। অন্যরা কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি নিজের মতো করে বাঁচতে চাই।’ পরবর্তীতে তার পরিবারও তার এই কাজে পূর্ণ সমর্থন দেয়। 

উল্লেখ্য, ডং মিন একা নন, চীনে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সাধারণ পেশায় চলে যাওয়ার এমন ঘটনা আরও রয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অনেক চিকিৎসকই অতিরিক্ত মানসিক চাপ, প্রশাসনিক কাজ এবং তুলনামূলক কম আয়ের কারণে হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে নিজস্ব ছোটখাটো ব্যবসা বা স্ট্রিট ফুডের দোকান দিচ্ছেন।

ডং মিনের মতে, জীবনে পরিবর্তন আনার কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা সময় নেই। যতদিন পেরে উঠবেন, আনন্দের সঙ্গেই নিজের এই রুটির দোকানটি চালিয়ে যেতে চান বলে জানান তিনি।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম