সন্তান জন্মালেই সরকারি হাসপাতাল থেকে দেওয়া হবে সোনার আংটি, যারা পাবেন
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই নবজাতককে সোনার আংটি দেওয়ার নতুন প্রকল্প চালু করেছে ভারতের তামিলনাড়ু সরকার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’ উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়।
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নবজাতকদের দেওয়া হবে ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি। প্রতিটি আংটিতে থাকবে আলাদা সিরিয়াল নম্বর এবং তা সরবরাহ করা হবে ট্যাম্পার-প্রুফ বা খোলা হলে বোঝা যায়—এমন প্যাকেটে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ২৮ হাজার আংটি প্রস্তুত করেছে রাজ্য সরকার। প্রকল্পটির জন্য বছরে ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কারা পাবেন সোনার আংটি?
তামিলনাড়ুর সরকারি হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া নির্দিষ্ট যোগ্যতার শিশুরাই এই সুবিধা পাবে। শিশুটির মা তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি তাকে ‘প্রেগন্যান্সি অ্যান্ড ইনফ্যান্ট কোহর্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন’ (PICME) ব্যবস্থায় নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং ‘রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ’ (RCH) আইডি থাকতে হবে।
২০২৬ সালের ২২ জুন থেকে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। প্রকল্প চালুর পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
তবে ২২ জুন থেকে প্রকল্প উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত যেসব যোগ্য শিশু জন্মেছে, তাদের জন্য আলাদা বিতরণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব শিশুর মধ্যে আংটি বিতরণ করা হবে রাজ্যের ১০৭টি হাবের মাধ্যমে।
কেন চালু করা হলো এই প্রকল্প?
তামিলনাড়ু সরকারের ভাষ্য, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু নবজাতককে উপহার দেওয়া নয়। এর মাধ্যমে মাতৃত্বকে সম্মান জানানো, নারীর স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
তামিল সংস্কৃতিতে শিশুর জন্মের পর মায়ের ভাই বা ‘মামা’র বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরতেই প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম’।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য আর্থিক চাপের সময়ে বিনামূল্যে সোনার আংটি দেওয়ার বদলে অন্য খাতে ব্যয় করা উচিত কি না।
এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি ব্যবস্থাপনা ও সোনার আংটি কেনার প্রক্রিয়া নিয়েও বিরোধীদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি


