মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন রণতরিসহ ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ এএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শনিবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। নতুন রণতরীর সঙ্গে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনাও ওই অঞ্চলে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী—ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন—মোতায়েন রয়েছে।
সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে অবস্থানের পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করা হয়।
থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন নতুন নৌবহর যোগ হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করবে। সব মিলিয়ে সেখানে ২০ হাজারের বেশি মার্কিন নৌ-সেনা ও নাবিক এবং শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করতে পারে।
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের
এদিকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, ইরান ব্যাপকভাবে পরাজিত অবস্থায় রয়েছে। এ কারণেই তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত
অন্যদিকে, ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হাতে ক্যাপ্টেন ছুরিকাহত হওয়া এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
গত বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটিতে ইরান দায়ী প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র পালটা হামলা চালাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানা হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন কিংবা অন্য কোনোভাবে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে এখন পর্যন্ত যাত্রীবাহী ওই বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
