বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ৩ নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করে ককরোচ জনতা পার্টি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন তিন নারী সাংবাদিক। অভিযোগগুলো ‘নিরপেক্ষভাবে’ তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। খবর এনডিটিভির
এক নারী সাংবাদিক অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে দায়িত্ব পালনকালে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) তাকে যৌন হয়রানি করেন।
তার অভিযোগ, পুলিশি তৎপরতার ভিডিও ধারণ করার সময় ওই কর্মকর্তা তার শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।
ওই সাংবাদিক আরও বলেন, পরে তিনি অন্যদের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ জানানোর পরও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা তিন সাংবাদিকের অভিযোগ পেয়েছে। ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারতের প্রেস কাউন্সিল। পুলিশ যেভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ করেছে, তাতে ‘হতবাক ও উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে প্রেস কাউন্সিল বলেছে, ‘গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।’ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদকারীদের কর্মকাণ্ড সাংবাদিকদের যেন ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করতে দেওয়া হয়, সে আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলেও সাংবাদিকদের কাজের সুযোগ না দেওয়ার ঘটনা ভারতের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেছে প্রেস কাউন্সিল।
সংস্থাটি আরও বলেছে, নারী সাংবাদিকের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সাংবাদিকরা যাতে হামলা বা হুমকির মুখে না পড়ে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে শনিবার কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা রাহুল গান্ধী বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাব দাবি করেন।
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দিল্লি পুলিশ যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাই অমিত শাহকেই এ বিষয়ে জবাব দিতে হবে।
হিন্দিতে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘এক নারী সাংবাদিক যন্তর মন্তরে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। শত শত সাংবাদিক ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে বসে আছেন, তাদের একটাই দাবি—একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হোক। এটাই কি পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব নয়? অথচ সেটিও করা হয়নি।’
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, শুধু শনিবারই যন্তর মন্তর থেকে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং সাংবাদিকদের টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও নারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের ভিডিও প্রমাণ সামনে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাহুল বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিল্লির নারী ও শিক্ষার্থীরা ‘সত্যাগ্রহ’ করছেন। অথচ যাদের তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেই পুলিশই তাদের ওপর হাত তুলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একজন নারীর অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও যে সরকার ভয় পায়, তারা আসলে কী রক্ষা করছে? দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অমিত শাহজি, আপনি কোথায়? এর জবাব আপনাকেই দিতে হবে।’


