ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
ভোট জরিপে পিছিয়ে লুলা, টপকে গেলেন বলসোনারোর ছেলে
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ এএম
বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে বড় চমক দেখিয়েছেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এগিয়ে থাকলেও ভোটের ফলে তাকে পেছনে ফেলেছেন ফ্লাভিও।
রোববারের (৪ অক্টোবর) প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও পেয়েছেন ৪৭ শতাংশ ভোট। লুলার ভোট ৪৫ শতাংশ। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।
ভোটের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে লুলা গড়ে প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান উল্টে দিয়ে ফ্লাভিও এগিয়ে যাওয়ায় নির্বাচনের ফলকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ফল ঘোষণার পর রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের ফ্লাভিও বলেন, ‘ব্রাজিল পরিবর্তন চায়। ফলাফলে আমি খুবই খুশি। এই ফল লুলার নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টির দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে’।
ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে যান জইর। পরে নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়।
ক্ষোভ কাজে লাগালেন ফ্লাভিও
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, অপরাধ, দুর্নীতি ও অর্থনীতি। লুলা সরকারের সময়ে বেকারত্ব ও আয়বৈষম্যের কিছু সূচকে উন্নতি হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও পরিবারের ঋণের চাপ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অপরাধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছেন ফ্লাভিও।
ভোট দিতে যাওয়ার সময় সাও পাওলোর ৪১ বছর বয়সী আইনজীবী তাইসে লিমা বলেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল লুলার ওয়ার্কার্স পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরানো। তিনি ফ্লাভিওকে সেরা প্রার্থী মনে না করলেও তাকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাফায়েল ফাভেত্তি বলেন, প্রথম দফার ভোটে ফ্লাভিও যে ‘প্রতিবাদী ভোট’ পেয়েছেন, তার প্রভাব দ্বিতীয় দফাতেও পড়তে পারে। তবে ওই ভোটের বড় অংশ ইতিমধ্যে তার পক্ষে চলে আসায় দ্বিতীয় দফায় নতুন ভোটার আকর্ষণ করা তার জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।
লুলার সামনে কঠিন লড়াই
ফল ঘোষণার পর সাও পাওলোতে সমর্থকদের উদ্দেশে লুলা বলেন, তিনি প্রথম দফাতেই জয়ী হবেন বলে বিশ্বাস করেছিলেন। তবে এখন নতুন করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
লুলা বলেন, তার সরকার কী কী কাজ করেছে, তা ভোটারদের সামনে তুলে ধরবেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে জনগণকে নিজের পক্ষে টানতে তার সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অপরাধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কাটানো।
নির্বাচনী প্রচারে অবশ্য দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে বড় ধরনের নীতিগত বিতর্ক খুব বেশি দেখা যায়নি। তারা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টেলিভিশন বিতর্কেও অংশ নেননি।
অর্থনীতিও বড় ইস্যু
ব্রাজিলের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক সূচক থাকলেও সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির সরকারি ঋণ জিডিপির ৮২ শতাংশের বেশি। এ কারণে পরবর্তী সরকারকে সরকারি ব্যয় ও ঋণের চাপ সামলাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
চলতি বছর ব্রাজিলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগামী বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও ২ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারের সময় ব্যাংকো মাস্টারকে ঘিরে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে আসে। ব্যাংকটির সাবেক প্রধান ড্যানিয়েল ভোরকারোর বিরুদ্ধে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। ফ্লাভিওর বিরুদ্ধেও অর্থ পাচারের সন্দেহে তদন্ত হচ্ছে। তিনিও কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২৫ অক্টোবরের দিকে নজর
নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও আলোচনায় ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি। তবে তিনি ফ্লাভিওকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করেছেন।
