মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি, সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের মুখে শ্রীলংকান যুবক
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ এএম
অনুজান শিবারাস। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি শ্রীলংকান তরুণ অনুজান শিবারাসের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। ইসলামের পবিত্রতা রক্ষা এবং যেকোনো অবমাননার বিরুদ্ধে সৌদি বিচারব্যবস্থার কঠোর আইনের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ছেলের জীবন রক্ষায় তার পরিবার ক্ষমা চেয়ে বিশ্ববাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে।
গত জুনে শ্রীলংকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে অনুজান মহানবী (সা.)-কে নিয়ে একটি অসম্মানজনক মন্তব্য পোস্ট করে বসেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে কমেন্টটি ডিলিট করেন এবং ক্ষমা চেয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন, তবুও ততক্ষণে কেউ ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে সৌদি আরবে তার কর্মস্থলে পৌঁছে দেয়। এর জেরে গত জুলাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
ইসলাম ধর্ম ও মহানবীর অবমাননার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সৌদি আইন অত্যন্ত কঠোর। আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট শুরুতে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করলেও, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে আদালত সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়া আইনের আওতায় বিচার করে তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।
ইসলামে নবীজির সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে অনুজানের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবে এ ধরনের সাজা কার্যকরের নির্দিষ্ট কোনো পূর্বঘোষণা দেওয়া হয় না।
এদিকে অনুজানের পরিবার ও শ্রীলংকা সরকার সাধারণ ক্ষমার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়াক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছেন। দেশটির একটি আইনি দল সৌদি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে গিয়েছে।
ইসলাম ধর্ম যেমন অপরাধের উপযুক্ত শাস্তির বিধান রাখে, তেমনি অনুতপ্ত ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পায়। ফলে পরিবারটি এখন সাধারণ ক্ষমার শেষ আশার ওপর নির্ভর করে আছে।
সূত্র: বিবিসি।

-6ac696a6dec22.jpg)