পার্কে বসে ছিলেন বিজেপি নেতার মেয়ে, তাকেও আটক করল পুলিশ
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম
দিল্লির একটি গুরুদ্বারার কাছে পার্কে বসে থাকার সময় যশস্বিনীকে আটক করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা ও দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সাবেক বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিংও। খবর এনডিটিভির
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির একটি গুরুদ্বারার কাছে পার্কে বসে থাকার সময় পুলিশ তাকে আটক করে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যশস্বিনী।
তিনি লেখেন, ‘বাংলা সাহিবের কাছে পার্কে বসে থাকার কারণে আমাকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে আমাকে কেশবপুরম থানায় রাখা হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪০ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় বসানো হয় ব্যারিকেড এবং চলাচলে বাধা দিতে স্থাপন করা হয় স্পাইক স্ট্রিপ। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
কে এই যশস্বিনী রাজে সিং?
যশস্বিনী রাজে সিং উত্তরপ্রদেশের ফতেহপুর সদর আসনের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের মেয়ে। এর আগে চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই আন্দোলনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছিল। সে সময়ও ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেন যশস্বিনী।
আটক চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিরোধী দলের চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকেও আটক করা হয়। তারা হলেন পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মধ্য দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ আটক করা হয়। পুলিশ তাকে বিক্ষোভস্থলে যেতে বাধা দিলে তিনি একটি বাসস্ট্যান্ডে বসে পড়েন। পরে তাকে এবং দলের পাঁচ সংসদ সদস্যকে পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যায়। আটক সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন।
পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে মমতাকে মুখে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা, ইন্ডিয়া জোট, মানুষের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী করতে লড়াই চালিয়ে যাব।’
এদিকে, যন্তর মন্তরে নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিরোধী দলের আরও কয়েকজন নেতা এবং ছাত্রনেতাকেও আটক করা হয়েছে।


