বিক্ষোভকারীদের আটক নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলল ভারত
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
শনিবার দিল্লিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকদের গণহারে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের উদ্বেগের কড়া জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। জাতিসংঘের এই উদ্বেগকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে শত শত বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত বলেছে, এ বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ যথাযথ নয়। বরং বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বড় আকারের বিক্ষোভের প্রতিও সংস্থাটির সমান মনোযোগ দেওয়া উচিত।
ভারতের জাতিসংঘবিষয়ক এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। দেশটির সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম এ অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে এবং কোনো অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার জন্য দেশটির আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত।’
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে জানান, দিল্লিতে বড় আকারের বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে ভারতে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের গণহারে আটকের খবর নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার পুরোপুরি সম্মান ও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কড়াকড়ি, আটক নেতারা
ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তরে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে দলটির করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি পুলিশ।
বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর শনিবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।
এদিকে, সিজেপির সমর্থকদের দিল্লিতে আসা ঠেকাতে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল যোগাযোগের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে পুলিশ।
পুলিশের হাতে আটক অধিকাংশ ব্যক্তিকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দলটির শীর্ষ নেতারা এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি তখনো আটক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


