বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই ভারতে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাণিজ্য নিয়ে মতপার্থক্য এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা, কৌশলগত সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর জানিয়েছে, ভারত সফরের আগে রুবিও উজবেকিস্তানের সমরকন্দে যাবেন। সেখানে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সি৫+১’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। এরপর তিনি ভারতের মুম্বাই ও গুজরাটের জামনগর সফর করবেন।
গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আয়োজনে কোয়াডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন রুবিও। সেই সফরের পর আগামী সপ্তাহের সফরটি হবে ভারতে তার দ্বিতীয় সফর।
ভারতে অবস্থানকালে রুবিও দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন তিনি বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
রুবিওর ভারত সফরের ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা সমাধানের দিকে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে ব্লুমবার্গ নিউজের প্রধান সম্পাদক জন মিকলথওয়েটের সঙ্গে আলোচনায় জয়শঙ্কর জানান, তার ধারণা, বিষয়টি একটি সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে।
জয়শঙ্কর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শিল্প খাতকে পুনর্গঠন করতে চাইছে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশ কী শর্তে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে, সেই নিয়মও নতুন করে নির্ধারণের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারকে যেসব শর্ত দিচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করেই প্রস্তাবিত চুক্তিটি মূল্যায়ন করছে ভারত।
জয়শঙ্করের ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে সাজিয়েছে।’ এ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের হিসাব নতুন করে করা এবং সম্পর্কের শর্ত পুনর্নির্ধারণ করা অন্যান্য দেশের জন্যও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনায় শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তিত বাণিজ্যনীতির কারণে বিভিন্ন দেশকে নিজেদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। ভারতও প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো বিবেচনা করে এগোতে চাইছে।
এমন পরিস্থিতিতে রুবিওর আসন্ন ভারত সফর দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বাণিজ্য নিয়ে মতপার্থক্য এবং রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আলোচনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


