বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন, নেহা বোরার ‘বাংলাদেশের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে’ ভিডিও নিয়ে বিজেপি
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। শিক্ষার্থী আন্দোলনের সংগঠক নেহা বোরার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। তার দাবি, ভিডিওতে বাংলাদেশের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে নেহা বোরার বক্তব্য ভারতে ‘ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি’।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে পিএইচডি শুরু করা ২৯ বছর বয়সি নেহা বোরার একটি তারিখবিহীন সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ভারতে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে।
ভিডিওতে নেহা বলেন, ‘এই দেশে আমরা সর্বত্র যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তা প্রথম শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানোর এবং এ দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কয়েক সপ্তাহের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। ওই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়।
নেহা বোরার বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠে এসেছে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলমান প্রতিবাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।
নেহা বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ছিল গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ ভারতের তরুণরা যে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিও গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের দেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, আজ এ দেশের জেন-জি ও তরুণরাও একই ধরনের লড়াই করছেন।’
এই বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেন, বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার রাজনৈতিক বলয় কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং তাদের লক্ষ্য ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো।
ভিডিওতে ভান্ডারিকে উচ্চকণ্ঠে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, নেহা বোরার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ভান্ডারি আরও অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রতিরোধ নয়, বরং ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করা। তার দাবি, কংগ্রেসের পুরো রাজনৈতিক বলয় বাংলাদেশে যা ঘটেছে, ভারতে সে ধরনের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর দিকে মনোযোগী। তবে এগুলো বিজেপি মুখপাত্রের রাজনৈতিক অভিযোগ; ভিডিওতে নেহা বোরার বক্তব্যে সরাসরি ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি।
একই সাক্ষাৎকারে নেহা বোরাকে বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের একসঙ্গে কাজ করে উন্নত দক্ষিণ এশিয়া এবং একটি ভালো বিশ্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করতে শোনা যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশে আপনারা এবং ভারতে আমরা একসঙ্গে একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া ও আরও ভালো বিশ্বের জন্য লড়াই করতে পারব।’
চলতি সপ্তাহে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলে অংশ নেন নেহা বোরাও।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘সব প্রতিবাদই একটি প্রতিবাদ। এখানে সমান্তরাল কোনো প্রতিবাদ নেই। ভারত এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, যারা সংবিধান রক্ষার জন্য লড়াই করছেন, তারা যে রাজনৈতিক সংগঠন থেকেই আসুন না কেন, তাদের পাশে থাকবে তার দল। ভারতের মানুষের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও প্রতিবাদকে উল্লেখ করেন তিনি।
বিক্ষোভে পরিচিত মুখ নেহা বোরা
কথাবার্তায় শান্ত স্বভাবের হলেও মাইক্রোফোন হাতে জোরালো বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত নেহা বোরা হিন্দি ও ইংরেজিতে বক্তৃতার মাধ্যমে অনুসারী তৈরি করেছেন। তার বক্তব্যে প্রায়ই সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্য এবং সরকারের জবাবদিহির মতো বিষয় উঠে আসে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত জুলাইয়ে হওয়া বিক্ষোভের সময় তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। সে সময় অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন তিনি। ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সরকারের ভূমিকা ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণের সমালোচনা করে দেওয়া তার বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় তাকে একাধিকবার আটক করা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর আবারও তিনি প্রতিবাদে যোগ দেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেহা বলেন, বর্তমান আন্দোলন কেবল কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ওপর নির্ভর করছে না; বরং মানুষের মধ্যে আশা তৈরি হওয়াও এর অন্যতম চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, ‘ভয় অবশ্যই সংক্রামক। কিন্তু আশাও সংক্রামক। মানুষ এখন সাহস পাচ্ছে, কারণ তারা মনে করছে, তারাও সাহস দেখাতে পারে।’
নেহার মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: এনডিটিভি
