প্রেমিকের সঙ্গে সংসার করতে চাওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা করল যুবক
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
অঙ্কুর প্যাটেল। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে নতুন প্রেমিকের সঙ্গে সংসার করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি। অভিযুক্তের নাম অঙ্কুর প্যাটেল (৩১)। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, গত আগস্টে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর প্রায় তিন মাস আগে, মে মাসে অঙ্কুর প্যাটেল ও তার ৩২ বছর বয়সি স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদের পর স্ত্রী উইসকনসিনে তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের চাপে বিচ্ছেদের পর একবার প্যাটেলের কাছে ফিরে এসেছিলেন ওই নারী। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার চলে যান। পরে এক সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে লুইজিয়ানায় বসবাস শুরু করেন তিনি। তাদের মেয়েকে প্যাটেলের কাছেই রেখে যান।
এদিকে, স্ত্রীকে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন প্যাটেল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্ত্রী ও তার নতুন সঙ্গীকে হত্যার হুমকি দিতে শুরু করেন। পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে স্ত্রীকে কথা বলতেও বাধা দিতেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্যাটেল শিকাগোতে আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এ সময় তিনি স্ত্রীকে না জানিয়েই মেয়েকে ভারতে তার বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন।
এরপর মেয়ের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে স্ত্রীকে শিকাগোতে ডেকে পাঠান প্যাটেল। মেয়েকে ভারতে পাঠানোর বিষয়টি না জানায় ওই নারী নতুন সঙ্গীকে নিয়ে শিকাগোতে আসেন। তার সঙ্গী ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। আর তিনি একাই প্যাটেলের অ্যাপার্টমেন্টে যান।
সেখানে গিয়ে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে হতবাক হয়ে যান তিনি। এ সময় প্যাটেল আবারও সংসার শুরু করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু স্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করে নতুন সঙ্গীর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্যাটেল তার স্ত্রীর গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, বাইরে অপেক্ষা করা ওই নারীর সঙ্গী বারবার তাকে বার্তা পাঠাতে থাকেন। কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্টটি শনাক্ত করতে না পারায় ফিরে যায়।
পরে ওই রাতে প্যাটেলের কয়েকজন বন্ধু তার সঙ্গে দেখা করতে অ্যাপার্টমেন্টে যান। নির্ধারিত সময়ে প্যাটেল সেখানে না পৌঁছানোয় তারা খোঁজ নিতে এসেছিলেন। এ সময় ওয়াশিং মেশিনের পাশে তার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা হতবাক হয়ে যান। তবে প্যাটেলকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ময়নাতদন্তে ওই নারীর শরীরে একাধিক প্রতিরোধমূলক ক্ষত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, হামলার সময় তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পর প্যাটেল শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় তিনি সেদিন টিকিট কিনতে পারেননি।
পরে বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে ওঠেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটিও ফেলে দেন প্যাটেল। এরপর একটি টার্গেট স্টোর থেকে নতুন পোশাক কেনেন।
পরদিন ভারতে যাওয়ার বিমানের টিকিট কেনেন তিনি। তবে বিমানে ওঠার আগেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে প্যাটেল দাবি করেন, স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা তার ছিল না। তবে স্ত্রী নতুন সঙ্গীর সঙ্গেই থাকতে চান বলে জানানোর পর তিনি তাকে ‘শেষ করে দিয়েছেন’ বলে স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় প্যাটেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


