মালয়েশিয়ায় ২০ মাসে আটক ১ লাখ ৫৯ হাজার অবৈধ অভিবাসী
Advertisement
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মালয়েশিয়ায় গত বছর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২০ মাসে ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৩২ জন অনথিভুক্ত বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সময়ে দেশজুড়ে ৫৩ হাজার ৩১৮টি অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ১৯১ জনকে তল্লাশি করা হয়েছে। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৬ হাজার ৯৯ জন নিয়োগদাতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বৈধ ভ্রমণ অনুমতিপত্র বা কাজের অনুমতিপত্র না থাকা এবং অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করাসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) নথি জালিয়াতির একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। পুলিশের নথির বরাত দিয়ে জানানো হয়, ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী কুয়ালালামপুরে। এ ঘটনায় ছয়জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শরণার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করতে সরকার শরণার্থী নিবন্ধন নথি (ডিপিপি) কর্মসূচি চালু করবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ কর্মসূচির আওতায় সরকার নিজস্ব নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এর মাধ্যমে শরণার্থী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই এবং তাদের প্রকৃত শরণার্থী মর্যাদা নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির পরিচয় যাচাই, আঙুলের ছাপসহ জীবমিতিক তথ্য সংগ্রহ, নিরাপত্তা যাচাই এবং সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, ইউএনএইচসিআরের কার্ডধারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিপি কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য কি না, তা সরকার নিজস্ব যাচাইপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিজস্ব নিবন্ধনব্যবস্থা চালু হলে শরণার্থীদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। পাশাপাশি পরিচয় যাচাই এবং জীবমিতিক তথ্যের মাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য, অন্যের পরিচয় ব্যবহার ও সন্দেহভাজন জাল নথি শনাক্ত করা সহজ হবে।
সংসদ সদস্য দাতুক রোসল ওয়াহিদ (পিএন হুলু তেরেঙ্গানু) ইউএনএইচসিআরের নথি জালিয়াতির ঘটনা, এ ধরনের অপরাধে গৃহীত ব্যবস্থা এবং কতজন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এর জবাবেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্য প্রকাশ করে।

